বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডে (মিল্ক ভিটা) সদ্য নিয়োগ পাওয়া সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইনের বিরুদ্ধে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার পর খামারিদের প্রতিবাদের মুখে বাদ পড়েন এ আনোয়ার হোসাইন। এ ঘটনায় খামারিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সমবায়ের সদস্য ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারকারী আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ না দিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে খামারিরা।
জানা যায়, গত বছরের ২৮ জুলাই ময়মনসিংহের ফুলপুরের একটি সমবায় সমিতির সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হন আনোয়ার হোসাইন। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লা বলে জানা যায়। তার কোনো খামার না থাকার পরও ফুলপুরের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কমিটির সদস্য হওয়ায় সে সময় খামারিরা প্রতিবাদ করেন। এ কারণে তখন তার নিয়োগ বাতিল করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
গত ২৩ এপ্রিল আবারো তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে এবার তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলির একটি সমবায় সমিতির সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। তার এ ঠিকানাও ভুয়া বলে জানিয়েছে খামারিরা।
বাঘাবাড়িতে গত শনিবার প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী বিভিন্ন সমবায় সমিতির সাড়ে পাঁচশ সদস্যের অংশগ্রহণে ও মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিলের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন সমিতির পক্ষ থেকে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করা আনোয়ার হোসাইনের বিষয়ে আপত্তি তোলা হয় এবং তাকে নিয়োগ না দিতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক নয়া দিগন্তকে বলেন, আনোয়ার হোসাইনের বাড়ি কুমিল্লা। তিনি মিল্কভিটার সমবায়ী সদস্য নয়। গত বছরের ২৮ জুলাই ময়মনসিংহের ফুলপুরের একটি সমবায় সমিতির পরিচয় দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হন। ওই ঠিকানা ভুয়া হওয়ায় খামারিরা এর প্রতিবাদ করলে তাকে বাদ দেয়া হয়। তারপরও তিনি সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে সব সময় অবস্থান করতেন এবং মিল্ক ভিটার নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৩ এপ্রিল আবারো তাকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে এবার তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলির একটি খামারের সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। তার এ ঠিকানাও একটি ভুয়া ঠিকানা। তিনি বলেন, গত শনিবারের সভায় চেয়ারম্যানের সামনেই আমরা তাকে অতিদ্রুত সরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। অন্যথায় খামারিরা দুধ সরবরাহ বন্ধ এবং আন্দোলনে নামার আল্টিমেটাম দিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসাইন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি কখনোই ময়মনসিংহের ফুলপুরের কোনো সমিতির সদস্য ছিলাম না। এর আগে আমি মিল্ক ভিটায় কখনো নিয়োগ পায়নি। এবারই প্রথম চট্টগ্রামের কর্ণফুলির দক্ষিণ চর ফরিদ প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সদস্য হিসেবে মিল্কভিটায় সহসভাপতি পদে নিয়োগ পেয়েছি।
এ প্রসঙ্গে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল নয়া দিগন্তকে বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে তাকে ময়মনসিংহের ফুলপুরের একটি সমিতির পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়ার চিঠি আমাদের কাছে আছে। তা ছাড়া আইনানুযায়ী কোনো ব্যক্তি ভিন্ন দু’টি এলাকার সমবায় সমিতি থেকে সদস্য হয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকতে পারেন না। অনেক সময় মন্ত্রণালয়েরও জানার ঘাটতি থাকতে পারে। তাকে কমিটিতে অর্ন্তভুক্তির ব্যাপারে মন্ত্রণালয় চিঠি দিলেও এখনো তাকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। আমরা বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করছি এবং আমরা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবহিত করবো।



