বিশেষ সংবাদদাতা
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আগামী অক্টোবর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আর এ উপ নির্বাচনের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এক মাস পিছিয়ে অক্টোবরের পরিবর্তে নভেম্বরে শুরু করার পরিকল্পনা করছে ইসি। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করার পর উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি।
ইসি বলছে, আইন অনুযায়ী, সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হয়। সে অনুযায়ী অক্টোবরে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ জন এমপি ভোটার ছিলেন। ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট এবং কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ ৮৮ ভোট পেয়েছিলেন। এরপর ওই দিনই নির্বাচন কমিশন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। এরপর গত ২২ আগস্ট সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি চলছে। নভেম্বর মাসে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করার নিয়ম রয়েছে। তাই নভেম্বরে ভোট হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
ইসি থেকে জানা গেছে, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সাথে পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজন করা হতে পারে। এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল নিয়ে এখনো কমিশনে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। দুর্গাপূজা, বন্যা ও বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের নথি কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, উপনির্বাচন আমরা দ্রুতই করে ফেলব। আর স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিও অক্টোবরের মধ্যে শেষ করব। এ ক্ষেত্রে ভোট নভেম্বরে হতে পারে।



