কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা প্রসঙ্গে ভারতের দেয়া ব্যাখ্যাকে ‘অসন্তোষজনক’ আখ্যায়িত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, ঘটনাটি ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) বৈঠকে যোগ না দিয়ে নিজ ইচ্ছায় ঢাকা ফিরে গেছেন বলে গত মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইওআরএর একটি বৈঠকে ডা: জাহেদ উর রহমান যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আগেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তার সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক। এই ঘটনা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের দেয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, নিজ ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিটি রাষ্ট্রের রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক ডা: জাহেদ উর রহমানের ঘটনাটি তুলে ধরে বিদেশী কোনো মন্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে আসতে পারেন কি না জানতে চাইলে রনধীর জয়সওয়াল বলেন, গত ১৪ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) দিল্লিতে আইওআরএর ২৮তম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দিতে একটি ব্যক্তিগত পাসপোর্টে সার্ক ভিসা নিয়ে এসেছিলেন। তাকে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের পর বহুপক্ষীয় এই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে উপদেষ্টা নিজ ইচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, আইওআরএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে জাহেদ উর রহমান গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল। ডা: জাহেদ সরকারি পাসপোর্ট না নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন, যাতে সার্ক ভিসা অব্যাহতির স্টিকার ছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যেসব ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছিল, তার মধ্যে জাহেদ উর রহমানের জাহেদ’স টেক নামের চ্যানেলটিও ছিল। ভারত একইসাথে জাহেদ উর রহমানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।



