শাহেদ মতিউর রহমান
- গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু
- ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক হবেন পদোন্নতিতে
- তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষের সম্মাননা
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতায় আটকে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের পথ খুলেছে। সূত্র মতে এখন মাঠপর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। তালিকা যাচাই-বাছাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির পর তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেলে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় তিন মাসের মধ্যে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অধিদফতর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের সূত্র জানায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের একটি বিষয় নিয়ে মামলা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আদালতের রায় হওয়ার পরই সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। প্রথমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি হবে। এরপর তালিকা নিয়ে কারো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে। অভিযোগ না থাকলে তালিকা অধিদফতরে আসবে। গ্রেডেশন তালিকা হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।
সূত্র আরো জানায়, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস লাগতে পারে। কারণ সব জেলা থেকে গ্রেডেশন তালিকা আসতে হবে। সব তালিকা হাতে পাওয়ার পরই আমরা পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।
পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক জানান, গ্রেডেশন তালিকা আমরা অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এখন বিভিন্ন ইউনিটে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা তৈরির পর একটি নোটিশ দেয়া হবে এবং ৩০ কর্মদিবস সময় দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ না এলে তালিকাটি আমাদের কাছে পাঠানো হবে।
তিন মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষক সঙ্কটের সমাধান হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এভাবে বলা যাবে না। একটি ডেডলাইন নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা কাজ করছি। প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বলতে হলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সব জেলার তথ্য হাতে আসার পরই আমরা নির্দিষ্ট সময় বলতে পারব।
সূত্র আরো জানায়, পদোন্নতিকে বড় অংশ দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের শর্ত রয়েছে। তাই বর্তমানে যে ৩২ হাজারের বেশি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার বড় অংশই কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক সময় ধরে আমাদের শিক্ষক নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার হেডমাস্টার নেই। সেটার মামলা আমরা নিষ্পত্তি করেছি। পাবলিক স্কুলগুলোতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের রিটেন পরীক্ষা শেষ করার পর মামলার সম্মুখীন হয়েছিলাম, সেটাও শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেটার ভাইভার ব্যবস্থা করব।
এদিকে গত বুধবার চট্টগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের পর সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন করে নিয়োগ দেয়া হবে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।



