আতিকুর রহমান মানিক ঈদগাঁও (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলাব্যাপী ফসলি জমি থেকে টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। রাত নামলেই উপজেলার বিভিন্ন ফসলি বিলে শতাধিক ভেকু মেশিন (স্কেভেটর) দিয়ে রাতদিন চলে এ মাটিকাটা। আবাদি জমি থেকে এভাবে টপসয়েল কেটে নেয়ায় উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে ফসলি জমির।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের জন্য বিলের বুক চিরে অস্থায়ী সড়কও তৈরি করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের পূর্ব ফরাজী পাড়ায় ফসলি জমিতে স্থাপিত টি কে ব্রিক ফিল্ডে এসব টপ সয়েল নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ডজনাধিক ভেকু মেশিন (এক্সেভেটর) ও শতাধিক ডাম্পার ট্রাক নিয়ে সারারাত সমানতালে চলে এ টপসয়েল কাটা। এতে ক্ষতবিক্ষত ও বিরানভূমিতে পরিণত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার শষ্যভাণ্ডার খ্যাত ধনকা বিল। ক্রমাগত টপসয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ায় শষ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে এসব অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
কৃষক আবদুর রহিম বলেন, একই ইউনিয়নের পালাকাটা ও লরাবাক গ্রামের মধ্যবর্তী বিলের অন্তত চার পয়েন্টে ১০-১২টি এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ঈদগাঁও রাবারড্যাম রাস্তার মাথার অদূরবর্তী বিল ও পালাকাটা রেলক্রসিংয়ের পশ্চিমেও এক্সেভেটর দিয়ে সারারাত টপসয়েল কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।
দক্ষিণ লরাবাক-মোহনবিলা সংযোগ সড়কের দু পাশের বিলে ডজনখানেক এক্সেভেটর দিয়ে টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) কাটা হচ্ছে। টপসয়েল কেটে নেয়ায় জেলার শষ্যভাণ্ডারখ্যাত ধমকা বিল পরিণত হচ্ছে বিরান ভূমিতে। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বোয়ালখালী বিল, ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া ঝাইক্কা কাটা বিলেও চলছে একই কায়দায় মাটি লুট। এভাবে সর্বত্র টপসয়েল লুটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাতে শক্তিশালী ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে ইটভাটা মালিকরা। ফসলি জমি থেকে দিনরাত কেটে নেয়া এসব মাটি শত শত ডাম্পার ট্রাকে বিভিন্ন ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। আবাদি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নিয়ে পর্বতাকারে স্তূপ করা হয়েছে ইটভাটাগুলোতে।
পরিবেশবাদীরা জানান, আইনের তোয়াক্কা না করে লোকালয়ের মধ্যে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে আবাদি জমিতে অবৈধ এসব ব্রিক ফিল্ড স্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এসব ইটভাটা বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যগত হুমকি সৃষ্টি করলেও সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজারের পরিচালক জমির উদ্দীন ফোন রিসিভ করেননি। ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, টপসয়েল কাটা বন্ধে শিগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।



