হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

Printed Edition
এনসিপির কার্যালয়ে পরিদর্শনে আসা স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে দলীয় প্রতীকের নমুনা প্রদান করেন নেতারা  : নয়া দিগন্ত
এনসিপির কার্যালয়ে পরিদর্শনে আসা স্পেনের রাষ্ট্রদূতকে দলীয় প্রতীকের নমুনা প্রদান করেন নেতারা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে দলটির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা।

গতকাল সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারো হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে, কারো পা ভেঙে দেয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এ হামলার সাথে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এই এলাকায় বাইরে থেকে এসে কিছু লোক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এর জবাবে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

রিংগন আরো বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণ শহরের পরিবেশ নষ্টের দায় যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বহন করবে। এনসিপির নেতাকর্মীরা মিডিয়ায় নিজেদের হাইলাইট করার জন্য অতিরঞ্জিতভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।