শ্রীপুরে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা

Printed Edition
গাজীপুরে সেনাবাহিনীর ব্রিফিং : নয়া দিগন্ত
গাজীপুরে সেনাবাহিনীর ব্রিফিং : নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ সাতজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল সকালে গাজীপুর মহানগরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিআরআরআই) অস্থায়ী সেনাক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন, ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান।

তিনি জানান, গত ৬ নভেম্বর ভোর রাতে গাজীপুর আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ ও র‌্যাবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং শ্রীপুর এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত এনামুল হক মোল্লাকে তার নিজ বাড়ির পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে তার আরো ছয় সহযোগীকেও আটক করা হয়।

অভিযান চলাকালে দু’টি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, দু’টি ইলেকট্রিক শক ডিভাইস, চারটি ওয়াকিটকি সেট, দু’টি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল, চারটি লাঠি, একটি হ্যামার নেল গান এবং একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- এনামুল হক মোল্লা (৫০), শওকত মীর (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪০), মোস্তফা কামাল (৩২), সিদ্দিকুর রহমান (৩৪), বুলবুল মিয়া (৩৫) ও তোফাজ্জল হোসেন (৪৫)।

সেনাবাহিনীর অবস্থান

লে. কর্নেল লুৎফর রহমান বলেন, ‘একটি মহল এনামুল হক মোল্লার গ্রেফতারের বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেয়ার পাশাপাশি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে নয়। আমরা ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে, সেনাবাহিনী দেশের পক্ষে, যারা এ ব্যাপারে অপপ্রচার করছে, তাদেরও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অপপ্রচারের অভিযোগ ও সতর্কবার্তা

সেনাকর্মকর্তা জানান, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অভিযানের পর এনামুল হক মোল্লার বাড়ি থেকে ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদি হারানোর মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ‘এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে,’ বলেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, যৌথবাহিনীর অভিযানে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এনামুল হক মোল্লার পরিচয়

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক মোল্লা বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে। তিনি প্রায় ১৫ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। গত বছর দেশে ফিরে গাজীপুর-৩ আসনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। সম্প্রতি বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন এবং নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণাও শুরু করেন। দেশে ফিরে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সেনাবাহিনীর আহ্বান

ব্রিফিংয়ে সেনাকর্মকর্তা লে. কর্নেল লুৎফর রহমান এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যৌথবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় আমরা কৃতজ্ঞ। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুর জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’