উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত ১১

নরসিংদীতে দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

Printed Edition
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  পাহাড় ধসে নিহত ১১
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত ১১

কক্সবাজার অফিস ও উখিয়া সংবাদদাতা

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে আবারো ভয়াবহ পাহাড় ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে একটি মেয়েদের হেফজ মাদরাসার ওপর। মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে যায় মাদরাসার ভবন, ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয় প্রাণ বাঁচানোর আর্তনাদ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১০ জনকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

গতকাল বুধবার বেলা ১টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৩ ব¬কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় আকস্মিক এ ধস নামে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, ১৪ এপিবিএন পুলিশ, ক্যাম্প প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় কোদাল, শাবল ও হাতের সাহায্যে মাটি সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, এ পর্যন্ত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় মেয়েদের হেফজ মাদরাসাটিতে ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রী অবস্থান করছিল। পাহাড়ধসের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। আশপাশের বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে।

মাদরাসার পাশের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড় ভেঙে পড়লে চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই মাদরাসাটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ভেতর থেকে শিশুদের কান্না ও সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছিল। স্থানীয়রা জীবন বাজি রেখে মাটি সরিয়ে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে মাত্র দুই দিন আগেই, গত ৬ জুলাই, উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো নতুন এই বিপর্যয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বন উজাড় এবং টানা বর্ষণের কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ক্যাম্পজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি আর নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া।

নরসিংদীতে ভারী বর্ষণে দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর রায়পুরায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তানঝুমা (৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তানঝুমা মাইজপাড়া গ্রামের আপেল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরে তানঝুমা। এ সময় বাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরের দেয়াল হঠাৎ ধসে তার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিশুর বাবা কক্সবাজারে আছেন। তিনি বাড়িতে ফিরলে তানঝুমার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাসুদ রানা জানান, পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি, উপজেলা প্রশাসন থেকে পরিবারটিকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মজিবুর রহমান বলেন, পরিবারের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।