এবারই প্রথম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পেশাদার লিগে খেলা চট্টগ্রাম সিটি এফসির। অভিষেকেই বাজিমাত। চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা উঠেছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে। চট্টগ্রামের অন্য দল চট্টগ্রাম আবাহনী ধুকছে বিসিএলে। চট্টগ্রাম মোহামেডানতো আগেই বিদায় নিয়েছে পেশাদার লিগ থেকে। সেখানে বন্দরনগরীর আরেক দল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে এসেই সেরা। তবে এই অর্জনেই আটকে থাকতে চায় না চট্টগ্রাম সিটি এফসি। দলের ম্যানেজার মহসিন আলী বাদশা জানান, আমরা বিএফএলে শুধু টিকে থাকার জন্যই উঠিনি। এসেছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। বিএফএলেও অভিষেকে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। আর কোচ শহীদুল ইসলাম জানান, আমরা দেশের শীর্ষ লিগে সম্মানজনকভাবেই থাকাই আমাদের লক্ষ্য।
ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিয়মিতই খেলছে বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের পাইওনিয়ার লিগেও খেলছে তারা। এরপর ক্লাব সভাপতি ডা: অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ অন্যরা সিদ্ধান্ত নেন বিসিএলে খেলার। তাই এবার লাইসেন্স করে বিসিএলে অংশ নেয়া। প্রায় দুই কোটি টাকা বাজেটে তাদের এই দল গঠন। এর মধ্যে এক ফুটবরারের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ছিল চার লাখ টাকা। তবে আগামীতে বিএফএলে চ্যাম্পিয়ন ফাইটিং দল গড়তে বাজেট কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বাদশা। তার মতে, আমাদের পৃষ্ঠপোষক আছে। সাংগঠনিক-ভাবে দক্ষ কর্মকর্তাও আছেন। এখন আমরা ভালো দল গড়ে জিততে চাই বিএফএল শিরোপা।
এবারের দলে বিএফএলে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার আছেন। এদের মধ্যে একজন ডিফেন্ডার শওকত রাসেল। তবে দলের ৩০ ফুটবলারের মধ্যে ২০ জনই চট্টগ্রামের। বাকিদের অন্যত্র থেকে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হলেন গত সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে মহাখালী একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা মাশরাফি ইসলাম। মাশরাফিকে অবশ্য মধ্যবর্তী দলবদলের সময়ে নেয়া হয়েছে। আর কোচ শহীদুল আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন। কখনও হেড কোচ। কখনও সহকারীর কোচের ভূমিকায়। তার অধীনেই ২০১৬ সালে বসুন্ধরা কিংস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাইওনিয়ার লিগে। বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব চট্টগ্রাম ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে সফল না হলেও ২০১৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়ি এবং আসামের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তথ্য দেন ম্যানেজার বাদশা।
চট্টগ্রামের ক্লাবগুলো বাফুফের পেশাদার লিগে খেললেও তারা চট্টগ্রামে হোম ভেন্যু বানাতে পারে না। নানা জটিলতায় চট্টগ্রাম আবাহনীকে পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে অন্যত্র ভেন্যু নিতে হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের ক্লাব হিসেবে আগামীতে তারা চট্টগ্রামের মাঠেই বিএফএল খেলতে চায় চট্টগ্রাম সিটি এফসি। এ জন্য পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) জানান বাদশা।



