খেরসনে ড্রোন দিয়ে ‘মুক্ত শিকারের’ নির্দেশ রুশ বাহিনীর

Printed Edition

রয়টার্স

ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে বেসামরিক ও সামরিক সব ধরনের যানবাহনের ওপর ড্রোন ব্যবহার করে তথাকথিত ‘ফ্রি হান্টিং’ বা মুক্ত শিকারের নির্দেশ দিয়েছে রুশ বাহিনী। এই অভিযানে বিশেষ সুবিধা পেতে ফাইবার অপটিক চালিত ড্রোন নামানো হয়েছে।

ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থা এড়াতে সক্ষম এসব আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোনের কারণে সমগ্র অঞ্চলটিতে সাধারণ নাগরিক ও সামরিক যাতায়াত চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সূত্র এই আশঙ্কাজনক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মিশনটি সফল করতে প্রথাগত ড্রোনের পাশাপাশি ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযুক্ত ড্রোন মোতায়েন করেছে মস্কো। ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ থাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রচলিত রেডিও-ইলেকট্রনিক জ্যামিং (ইডব্লিউ) প্রযুক্তিকে বিভ্রান্ত করে এগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারছে। এই উদ্দেশ্যে খেরসন সীমান্তে রাশিয়ার ড্রোন চালক ও বিশেষ ইউনিটের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে।

দূর থেকে দেখলে সামরিক পরিবহনের মতো মনে হয়, এমন সব যানবাহন চিহ্নিত করে ধ্বংস করাই রুশ ড্রোন চালকদের মূল উদ্দেশ্য।

তবে এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ বেসামরিক যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাসও অবিরত হামলার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বাজার, জ্বালানি স্টেশন এবং সুপারমার্কেটের মতো জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাধারণ ফার্স্ট পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনকে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হলেও, তারের সাহায্যে সঙ্কেত পাঠানো এই ড্রোনগুলোকে জ্যাম করা সম্ভব হচ্ছে না। হামলার তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় অধিবাসী ও প্রশাসন রাস্তাঘাট এবং স্থাপনার প্রবেশমুখে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী জাল বা অ্যান্টি-ড্রোন মেশ স্ক্রিনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। অনবরত ড্রোন নজরদারি ও এই নির্বিচার আক্রমণকে একটি পরিকল্পিত ‘হিউম্যান সাফারি’ বা সন্ত্রাসী অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।