হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু আরো ৬

৩ জনই সিলেটের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ৭৫ জনের শরীরে হাম শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিন জনই সিলেট বিভাগের। স্বাস্থ্য অধিদফতর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১২২ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৮৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৩৮ জন।

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১২ জন, রাজশাহীতে ২০, সিলেটে ৯১, চট্টগ্রামে ২৬০, বরিশালে ১৩৮, ময়মনসিংহে ৬৬, খুলনায় ৩৮ ও রংপুরে ১৩ জন।

এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৩২০। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।

রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯১, হবিগঞ্জে ১০৩ (এর মধ্যে ২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১০২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন।