৮ দলের গণসমাবেশ আজ

পল্টনে লাখো মানুষের জমায়েতের প্রত্যাশা

Printed Edition
আন্দোলনরত ৮ দল গতকাল রাজধানীতে যৌথ প্রেসব্রিফিং করে : নয়া দিগন্ত
আন্দোলনরত ৮ দল গতকাল রাজধানীতে যৌথ প্রেসব্রিফিং করে : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি, গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত আট দলের গণসমাবেশ আজ। রাজধানীর পল্টনে বেলা ২টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। এ সমাবেশে হাজার হাজার নয়, বরং লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে বলে আশা করছে দলগুলো।

সমাবেশ সামনে রেখে গতকাল পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে বৈঠক করেন আট দলের নেতারা। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশার কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সমাবেশে হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। লোকে-লোকারণ্য হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রাজধানী এবং আশপাশের মানুষই এতে যুক্ত হবে। আমরা দেশব্যাপী সমাবেশের ডাক দিতে পারতাম। তবে মঙ্গলবার শুধু রাজধানী ও আশপাশের জনবল নিয়েই সমাবেশ হবে। এতে যদি সরকার বুঝতে পারে, তাহলে আশা করি এই সমাবেশেই একটা বড় ধরনের মতামত উঠে আসবে।

পাঁচ দফা দাবি আদায়ে নিজেদের কর্মসূচি প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব শেষ হয়ে পঞ্চম পর্ব চলমান। গত ৬ তারিখ আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। একই সাথে ১১ নভেম্বর আমরা গণসমাবেশ ঘোষণা করেছিলাম। আমরা জনগণের কিছু মৌলিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। এটা কোনো জোট নয়, এটা আন্দোলনের একটা প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, তারা জনদুর্ভোগ সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সমাবেশ ঘিরে দুর্ভোগের কথা তারা বিবেচনা করেছেন। তাদের কর্মসূচির সময় বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বিএনপির সাথে জামায়াতের আলোচনা নিয়ে এ নেতা বলেন, তারা জামায়াতের ডাকে সাড়া দেবেন না, তারা এটা প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন। আমরাও প্রকাশ্যে বলে দিলাম, তারা আমাদের ডাকুক, আমরা অবশ্যই সাড়া দেবো। আমরা আলোচনা এবং আন্দোলন উভয় চেষ্টা অব্যাহত রাখব। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা বিফলে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা বিফলে যায়নি। আলোচনার মাধ্যমে একটি সনদ তৈরি এবং স্বাক্ষরিত হয়েছে। মূলত সনদ নিয়ে নয়, সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোট সংবিধানে ছিল, ফ্যাসিস্টরা বাদ দিয়েছে। যারা সংবিধানে গণভোট নেই বলে বলছেন, তারা ফ্যাসিস্টের কাজকে সমর্থন করছেন। সংবিধানে পাঁচ বছর পর নির্বাচনের কথা আছে। তাহলে কি সংবিধান অনুযায়ী ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা? বর্তমান সরকারও তো সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন- ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।