অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক

সরকারি সেবায় দুর্নীতি ঠেকাতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর তাগিদ

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিকে শুধু চিহ্নিত বা শাস্তি দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। বরং যে প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন বা অপসারণ করতে হবে। এ জন্য সরকারি সেবা ও কার্যক্রমে সরাসরি যোগাযোগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও হয়রানি কমার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ সহজ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে বৈঠকে মত দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদন (Accounting and Financial Reporting) ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়ানো গেলে কাজের দক্ষতা ও কার্যকারিতা আরো বাড়বে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন কমিটির সদস্যরা।

দুর্নীতি প্রতিরোধে সরাসরি যোগাযোগ ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কমিটির মতে, দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি সংঘটনের সুযোগ তৈরি করে এমন প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন বা অপসারণ করতে হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও হয়রানি কমবে এবং ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ হবে। একই সাথে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে সরকারের ব্যয় নির্বাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো নিরূপণ ও করণীয় বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম মনি, মো: জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো: শাহাদাত হোসেন, মো: সাইফুল আলম খান মিলন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং মো: আবুল হাসনাত অংশগ্রহণ করেন।

এনবিআরের করনীতির প্রথম সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।