মক্কা প্রতিরা চুক্তিতে নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই : পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মক্কা প্রতিরা চুক্তিতে এই মুহূর্তে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কোনো আলোচনাও চলছে না।

গতকাল ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক- এই তিন দেশ মক্কা প্রতিরা জোটের অংশ। বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক ও পরামর্শের পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সার্বণিক যোগাযোগ রয়েছে।

এই মুহূর্তে মক্কা চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেই উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, প্রথমে তিন সদস্যদেশকে চুক্তির আওতায় বিদ্যমান সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজন রয়েছেÑ এমন অন্যান্য দেশের জন্য জোটে যোগ দেয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত হলে তা পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে হবে।

সাজ্জাদ হায়দার বলেন, বর্তমানে জোট সম্প্রসারণ নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ফলে এই পর্যায়ে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গটি ‘সময়ের আগে’ হয়ে যায়।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরা চুক্তি (মক্কা চুক্তি নামেও পরিচিত) সই হয়েছে, যা একটি ত্রিপীয় পারস্পরিক প্রতিরা চুক্তি। ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসাবে অভিহিত হওয়া এই চুক্তিটি একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে একজন স্বারকারীর ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসাবে গণ্য করা হবে। চুক্তির মূল স্তম্ভগুলো এই ব্যবস্থাটির তিনটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের অনন্য কৌশলগত শক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে। প্রতিরা প্রকল্পের জন্য সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তুরস্কের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরা সরঞ্জাম। আর পাকিস্তান সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং প্রচলিত সামরিক শক্তি সরবরাহ করতে পারে। এ ছাড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানই একমাত্র পারমাণবিক বোমার অধিকারী।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় ও ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংসদে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার ব্যাপারে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেনি।