যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে নিলে ইরানের হামলা মোকাবেলায় এসব দেশের নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে যেতে পারে

Printed Edition

ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর সংখ্যা কমানো হবে কি না, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে ইরানের হামলায় এসব ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত আটজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

পেন্টাগনের মূল্যায়নের অন্যতম বিষয় হলো, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়া হবে কি না। গত কয়েক মাসে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’জন জানিয়েছেন।

ঘাঁটিগুলোর এই ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে এসব ঘাঁটি যে অবস্থায় ছিল, সেভাবেই সেগুলো পুনর্নির্মাণ নাও করা হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দফতর ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে।

পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দফতর এই মূল্যায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এখনো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার নির্দেশ দেননি বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি জানিয়েছেন, এটি আপাতত ‘সতর্কতামূলক পরিকল্পনা’; যা যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না এবং হলে কিভাবে করা হবে সে বিষয়ে প্রশাসনকে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সাধারণত জর্দান থেকে ওমান পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ মাইল এলাকাজুড়ে প্রায় ২০টি ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ৪০ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রাখে। চলতি বছরের শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেদের সেনাদের সুরক্ষা এবং ইরানে ১৩ হাজারের বেশি হামলা চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর বেশির ভাগই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় অন্যান্য দেশেও মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে নিলে ইরানের হামলা মোকাবেলায় এসব দেশের নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো বা অন্য শক্তিধর দেশগুলোর সাথে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

পেন্টাগনের মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এ বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ক আরো জোরালো করতে পারে। এক পক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে; অন্য পক্ষ মনে করে, পেন্টাগনের কিছু নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা জোরদার করা অথবা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত।

এই আলোচনায় সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপারও যুক্ত হয়েছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন সেনাদের আরো পশ্চিমে সরিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় কুপার সমর্থন দিচ্ছেন।