রাফিউল হুদা হাবিপ্রবি
কৃষিকে সহজলভ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে অনন্য এক প্রয়াস নিয়ে এসেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মডেশ চাকমা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রপস ডক্টর’ (পৎড়ঢ়ংফড়পঃড়ৎ.পড়স) উদ্ভাবন করেছেন তিনি। মডেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। কৃষিসংক্রান্ত পড়াশোনার সুবাদে প্রান্তিক কৃষকদের সেবা দিতে এবং তাদের কাজকে সহজ করার তাগিদ থেকেই তার এই উদ্ভাবন।
এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য মাঠপর্যায়ে ফসলের রোগবালাই দ্রুত শনাক্ত করা এবং ঘরে বসেই কৃষকদের সঠিক ও সময়োপযোগী সমাধান দেয়া। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ‘ডিজিজ ডিটেক্টর’ নামের বিশেষ একটি ফিচার। এর মাধ্যমে আক্রান্ত গাছের ছবি আপলোড করলেই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ শনাক্ত হয়ে যায় এবং সম্ভাব্য সমাধানের উপায় চলে আসে।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি ধান, গম, ভুট্টা, আলু, টমেটো, চা, পাট, সরিষা, আম, কলা, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনসহ দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ফসলের রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা ভেবে প্ল্যাটফর্মটিতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা যেন নিজেদের ভাষায় তথ্য পেতে পারেন, সে জন্য এতে আরো কয়েকটি ভাষা যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এই তরুণ উদ্ভাবক।
রোগ শনাক্তকরণের পাশাপাশি কৃষকদের হিসাব-নিকাশ সহজ করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে ‘ফার্টিলাইজার ক্যালকুলেটর’। এর মাধ্যমে জমির পরিমাণ ও ফসলের জাত অনুযায়ী সঠিক সারের পরিমাণ জানা যায়। রয়েছে ‘পেস্টিসাইড ক্যালকুলেটর’, যা কীটনাশক ও পানির সঠিক মিশ্রণ তৈরিতে নিরাপদ পরামর্শ দেয়। ফসলের রোপণ থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের দিকনির্দেশনার জন্য আছে ‘ক্রপ ক্যালেন্ডার’ এবং যেকোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সচল এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট। এমনকি স্যাটেলাইট ও ড্রোন বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৃহৎ কৃষিজমি পর্যবেক্ষণ, ফসলের অবস্থা এবং মাটির উর্বরতা মূল্যায়নের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
উদ্ভাবক মডেশ চাকমা বলেন, ক্রপস ডক্টর এআইয়ের লক্ষ্য হলো প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ কৃষকও যেন বড় বাণিজ্যিক খামারের মতো উন্নত কৃষিপরামর্শ পান। এআই ব্যবহার করে ফসল রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের স্বপ্ন। ইতোমধ্যে আমেরিকা, ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার কৃষকেরাও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। সেবাটি আরো সহজ করতে শিগগিরই এটি অ্যাপ হিসেবে উন্মুক্ত করা হবে। মডেশ চাকমার মতে, এটি কেবল একটি প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তার হাতিয়ার। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে ফসলের ক্ষতি কমবে, সারের অপচয় রোধে কৃষকের খরচ বাঁচবে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।



