প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • সরকারি সাত কলেজ
  • ৭ ডিসেম্বর থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের সামনের মিরপুর সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিউমার্কেটসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধ শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকাল থেকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

এ দিকে শিক্ষার্থীরা আগামী শনিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। এর মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

এই বিষয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, সাত কলেজে নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন থেমে আছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় জটিলতা বাড়ছে। তাই আগামী রোববার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে আমরা টানা অবস্থান করব। যতক্ষণ পর্যন্ত অধ্যাদেশ জারি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলসহ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে ব্যক্তিগত ধারণা, অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এবং সামগ্রিক শিক্ষাকার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার জন্যও বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে অংশীজনদের মতামত নেয়া হয়। এরপর খসড়া আইন চূড়ান্ত করার জন্য ২০ ও ২১ অক্টোবর এবং ১৭ নভেম্বর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সাথে তিন দফা বৈঠক হয়। তবে এখনো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।