পশ্চিমাদের চাপ অগ্রাহ্য

এশিয়ার সাথে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে রাশিয়া

Printed Edition
ভøাদিমির পুতিন
ভøাদিমির পুতিন

রয়টার্স

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র চাপের মুখে থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক আরো জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের রাজধানী কাজান শহরে আসিয়ানভুক্ত ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন শুরু হয়েছে, যার মূল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে আজ। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া ও আসিয়ান দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই শীর্ষ বৈঠকে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীরা সশরীরে অংশ নিচ্ছেন এবং ফিলিপাইনের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস। এ ছাড়া সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মিয়ানমারও এই সম্মেলনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা সঙ্কট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবিক সহযোগিতার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। মূলত ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়ে রাশিয়া তার সামগ্রিক অর্থনীতি, বিশেষ করে খনিজ জ্বালানি রফতানির মূল বাজার ইউরোপ থেকে সরিয়ে এশিয়ার দিকে ব্যাপকভাবে ঘুরিয়ে নিয়েছে। তবে একই সময়ে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মস্কোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে অবিলম্বে যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাবি না মানলে রাশিয়ার তেলের ওপর আবারো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে জড়িয়ে থাকার খেসারত দিতে হচ্ছে রুশ অর্থনীতিকে। বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তীব্র শ্রমিক সঙ্কট এবং বিশাল ঋণের চাপের মুখে পড়েছে, যা কাটিয়ে উঠতেই পুতিন প্রশাসন এখন এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াতে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।