ফুটবলের মাশরাফি

রফিকুল হায়দার ফরহাদ
Printed Edition
ট্রফি হাতে মাশরাফি ইসলাম
ট্রফি হাতে মাশরাফি ইসলাম

বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে এই হামজা চৌধুরী ক্রেজ। আর নারী ফুটবলের সব আলোই যেন কেড়ে নিয়েছেন ঋতুপর্না চাকমা। বাংলাদেশের উঠতি ফুটবলারদের কাছে আইডল এখন এই হামজা ও ঋতুপর্না। তবে এখনো শোনা যায়নি দেশে কোনো ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর নাম এই দুই ফুটবলারের নামে রাখতে। হয়তো পরে জানা যাবে। অবশ্য দেশের ক্রিকেট এখন যে পর্যায়ে গেছে তাতে আরো আগ থেকেই স্থানীয় ক্রিকেটারদের নামে সন্তানদের নাম রাখা শুরু হয়েছে। এই সেই নামের কেউ যদি পরে ফুটবল মাঠ মাতান তাহলে তা আলোচনার খোরাক হয়। সেই ক্রিকেটারের নামে দুই ফুটবলার এখন আলোচনায়। একজন মোহামেডানের গোলরক্ষক সাকিব আল হাসান। যিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। এবার পাওয়া গেল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার মাশরাফি বিন মর্তুজা নামে এক ফুটবলারকে। তিনি মাফরাফি ইসলাম। এই মাশরাফি সদ্যসমাপ্ত সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। মজার বিষয় হলো মহাখালী একাদশের হয়ে রাজশাহীর এই স্ট্রাইকার ১৮ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন। আর গোলও করেছেন ১৮টি।

এবারের সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র। রানার্সআপ ট্রফি গেছে মহাখালী একাদশের ঘরে। দলকে এই দ্বিতীয় পাইয়ে দিয়ে বিসিএলে খেলার প্রাথমিক ছাড়পত্র আদায়ের ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছেন মাশরাফি। টানা তিন ম্যাচে করেছেন হ্যাটট্রিক। এর মধ্যে টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের বিপক্ষে করেছেন ৫ গোল। ফুটবলার মাশরাফির নাম রেখেছেন তার দূরসম্পর্কের মামা রতন। তখন চলছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেট। মাশরাফি বিন মর্তুজা তখন দারুণ ফর্মে। এর পরই সেই মামা রাজশাহীর এই ফুটবলারটির নাম রাখেন মাশরাফি। তথ্য দেন এবারের সিনিয়র ডিভিশন লিগে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গোলের ঝড় তোলা খেলোয়াড়টি।

যেহেতু তারকা ক্রিকেটার মাশরাফির নামে নাম। তাই যেখানেই খেলতে গেছেন সবার আলাদা একটা দৃষ্টি থাকত ফুটবলার মাশরাফির দিকে। মহাখালী একাদশের এই খেলোয়াড় জানান, এই নামের কারণে যখন যেখানে খেলতে গিয়েছি, সবার আলাদা একটা আগ্রহ থাকে আমাকে ঘিরে। আমারও ভালো লাগে। অবশ্য স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা মামা রতন এত শখ করে তার নাম মাশরাফি রাখা হলেও নিজের মধ্যে ক্রিকেটার হওয়ার ব্যাপারে কোনো আগ্রহই ছিল না। জানান, ‘আমার ফুটবলের প্রতিই আগ্রহটা বেশি ছিল। ক্রিকেটে ততটা নয়। যদিও এলাকায় ক্রিকেট খেলেছি। ছিলাম অলরাউন্ডার। তবে কোনো লিগ খেলিনি। এর পরও মামা অবশ্য বেশ মজাই করেন আমাকে নিয়ে।’

এবারের লিগে মহাখালী একাদশের ১৬টি ম্যাচের ম্যাচে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি ইসলাম। তাতেই তার ১৮ গোল। প্রথম ম্যাচে সাধারণ বীমার বিপক্ষে গোল দিয়ে শুরু তার। এরপর একে একে ১৮ গোল। টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন বাসাবো তরুণ সংঘ, টিঅ্যান্ডটি ক্লাব মতিঝিল ও সিদ্দিকবাজার ঢাকা জুনিয়রের বিপক্ষে। তার ৫ গোল টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে মিস করেছেন ডাবল হ্যাটট্রিকের সুযোগ। জানান, সেই ম্যাচে সামান্যের জন্য ৬ গোল পায়নি। আমার দু’টি প্রচেষ্টা ক্রসবারে প্রতিহত হয়।

ক্রিকেটার মাশরাফি ক্লাবপর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। পরে সংসদ সদস্য হয়েছেন। সেখানে ফুটবলার মাশরাফি কোনো লেভেলেই ক্যাপ্টেন্সি করেননি। তবে এখন তার লক্ষ্য জাতীয় দলে খেলা। বয়স ১৯ বছর। তাই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন। এরপর সিনিয়র জাতীয় দলে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে তোলা। এবার ৩ হ্যাটট্রিকে ১৮ গোল করে সেই আত্মবিশ্বাস আরো পোক্ত হয়েছে। জানান, ‘আমি এবারের লিগে তিনটি হ্যাটট্রিকসহ ১৮ গোল করেছি। আশা করি জাতীয় দলের কোচ আমাকে বিবেচনায় নেবেন।’ যোগ করেন, এবার যেভাবে অনুশীলন করেছিলাম তাতেই মনে আত্মবিশ্বাস জেগেছিল সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারব। মহান আল্লাহরও সহায়তা ছিল।

তবে সিনিয়র ডিভিশনে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও এবারের বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে কোনো ক্লাব পাননি তিনি। অবশ্য এ জন্য সিনিয়র ডিভিশনের লিগের সিডিউলই দায়ী। বিসিএলের খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি। আর মহাখালীর শেষ খেলা ছিল ১৮ তারিখে। তাই ক্লাব তাকে ছাড়েনি। এ জন্যই বিসিএলের তিন ক্লাব তাকে নিতে চাইলেও তিনি ক্লাব থেকে বের হতে পারেননি। যদিও এ নিয়ে আফসোস নেই। জানান, বিসিএলে ক্লাব পাইনি এতে দুঃখ নেই। কারণ আমি সিনিয়র ডিভিশনে সফল। নিজে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছি। ক্লাবকে রানার্সআপ করিয়েছি। আশা করি মধ্যবর্তী দলবদলে ক্লাব পাবো।

রাজশাহীর পবা উপজেলার ট্রাক ড্রাইভার বাবার তিন ছেলের একজন এই মাশরাফি ফুটবলে এসেছেন মামুনুল ইসলাম জেটের কিশোর ফুটবল অ্যাকাডেমির মাধ্যমে। সাথে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির খেলা দেখেই অনুপ্রাণিত।