আবদুল মান্নান মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ ও কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জনসমাগম না থাকায় ভবনের পেছনের খোলা আন্ডারগ্রাউন্ড অংশে রাতে মাদক সেবন, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে বহুতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত ব্লক বসানো একটি সড়কও নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের পর থেকে ভবনটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহমেদ বলেন, ভবনটি জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় ১০ মাসেও ভবনের চাবি বুঝে পাননি। ফলে ভবনের ভেতরের কার্যক্রমও চালু করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভবনের পেছনের আন্ডারগ্রাউন্ডের তিন পাশ খোলা। সেখানে রাতের বেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোটর চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভবনের দু’টি তলা ভাড়া দেয়া গেলে সেখানে জনসমাগম বাড়বে এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
পাশের বাসিন্দা আলো রাণী অভিযোগ করেন, ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রাতে সেখানে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। কয়েক দিন আগে তিনি চিকিৎসকের কাছে গেলে তার অনুপস্থিতিতে রান্নাঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাশের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, ভবনটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ের পাশাপাশি অন্য তলাগুলো ভাড়া দেয়া হলে সেখানে মানুষের আনাগোনা বাড়ত। বর্তমানে জাতীয় দিবস ছাড়া ভবনটি তেমন খোলা হয় না। এতে ভবনটি ধীরে ধীরে জৌলুশ হারাচ্ছে এবং সরকারি উদ্যোগের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
সাবেক উপজেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সফিউল আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানিকছড়ি থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। রাতে দূরবর্তী এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



