মো: রুহুল আমিন
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলছে। চারদিকে তপ্ত রোদ চির সবুজ ঘাসের মাঠে গাছের ছায়ায় বসে ক্ষুধার্ত বাঘ যেমন শিকারের অপেক্ষায় থাকার পর শিকারের দেখা পায়, তেমন ক্ষুধার্ত ক্লান্ত শরীরে ইচ্ছে হলো চিকন চালের সাদা ভাত সাথে হরেক রকমের ভর্তা। এ যেন অমৃতের চেয়েও সুস্বাদু। বলছিলাম গাইবান্ধা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ব্যতিক্রমী ভর্তা উৎসবের আয়োজনের কথা। আগের দিন সাধারণ সভায় জুনিয়ররা সভাপতির কাছে বায়না ধরলো ভাই কিছু একটা প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। সভাপতি বলে বসলো আমি তো আয়োজন করতে চাই তোমাদের সাড়া পাই না। এর মধ্যে অনেকে অনেক কিছুর প্রস্তাব দিলো ভর্তা উৎসবের আয়োজন করলে কেমন হয়।
যেই কথা সেই কাজ। সবাই রাজি হলো এবং কাল যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ তাহলে কালকেই হয়ে যাক। কথা অনুযায়ী সকালে বাজারে যাবো এবং বাজার শেষে রান্না শেষ করে দুপুরের খাবার খাবো। সকালে হল থেকে বের হতেই সেক্রেটারির সাথে সাক্ষাৎ। তাকে নিয়ে জিয়া মোড়ে বসে হুমায়ুন এবং শাহজানকে ফোন দিলাম। আমার ফোনে হুমায়ুনের ঘুম থেকে জাগা পেয়ে তৈরি হয়ে চলে এলো। শাহজাহান বলল ভাই ডায়নাতে আছি সকালে বের হয়েছি ছবি তুলতে। সে অবশ্য ভালো ছবি তোলে। শাহজাহানের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বসে আছি। একে একে হাজির হলো হুমায়ুন, শাহজাহান, আশিক, মুনতাসির, হিমেল, হক্কানি ও সজিব। ওদের নিয়ে বাজারে গেলাম। বাজার করে টিএসসিতে আসলাম। এর মধ্যে ইদ্রিস এবং রিমঝিম রান্নার জিনিসপত্র নিয়ে হাজির। আমি রিমঝিম এবং মুনতাসিরকে রান্নার সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলাম। সবাই কাজে লেগে পড়ল। কেউ হাঁড়ি ধোয়া, পেঁয়াজ মরিচ কাটা, আদা রসুন ছেলাসহ বিভিন্ন কাজে লেগে পড়লাম। শুরু হলো রান্নার আয়োজন। সবাই রান্নার কাজে ব্যস্ত, এর মাঝে উপস্থিত হলো সংগঠনের সহ-সভাপতি আশিক। সে রসিক মানুষ, সজিব রসিকতা করে বলে উঠলো ভাই আপনার সঙ্গী আপুটা কই। মূলত রিইউনিয়নে আশিক এবং সাথী উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছিল সেই জন্য ও এভাবে বলতে ছিল। বলতে বলতে কাম চোর (যে কাজ দেখে ভয় পায়) সাথী হাজির। সাথী মেয়েটা অনেক মজার মানুষ। আসার সাথে সাথীকে বললাম তোরে জুনিয়র খোঁজে। সে সজিবকে বলল কিরে খুঁজিস সিনিয়র আপুর র্যাগ খাবি। সজিব প্রথমে একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে পরে মজার ছলে বলতেছে ভেবে ও রসিকতা শুরু করল। আমাদের রসিকতার মাঝে থেকেও থেমে নেই রান্নার কাজ। রিমিঝিম, সিনতা, রমজান, মুনতাসীর, আশিক, নুরুল, আয়শারা রসিকতার মাঝেও রান্নার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জোহরের আজান দিচ্ছে। এ সময়েও রান্নার কাজ চলতে ছিল। দুপুর হওয়ায় সবাই হালকা ক্ষুধার্ত। তারপর চারদিকে রান্নার ঘ্রাণ ক্ষুধার মাত্রাটা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। হুমায়ুনকে পাঠালাম বিস্কুট নিতে। একটু পর হুমায়ুন বিস্কুট নিয়ে এলো, জুনিয়ররা সাথীর কাছে বায়না ধরল আপু চা খাবো। রান্নার কাজের মাঝে একবার চা-বিস্কুট চক্র হয়ে গেল। চা খাওয়ার সময় ক্যামেরা নিয়ে শাহজাহান হাজির। ক্যামেরার লেন্স দেখে আশিক এবং সাথী হয়ে গেল রাঁধুনি। শুরু হয়ে গেল রান্নার ভান ধরে ছবি তোলা কাজ। ছবি তোলার মাঝেও সিনতা, রিমঝিম, আয়েশা, মাহফুজাসহ কয়েকজন ছেলে ভর্তা করা কাজে ব্যস্ত। রান্না শেষ এবার ক্রিকেট মাঠে সবুজ ঘাসের ওপর বসে খাবার পালা। সারাদিন বাজার রান্নার কাজ করে ক্ষুধার্ত এরপর সামনে লোভনীয় হরেক রকমের ভর্তা ক্ষুধা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। সাথী ব্যাস্ত প্লেট সাজিয়ে ছবি তুলতে। সাথীর সাজানো প্লেট নিয়ে ছবি তোলার সিরিয়াল শুরু হয়ে গেল। খাবার প্লেটে পেলাম আলু, কচুরমুখী, ডাল, ডিম, রসুন, ধনিয়া, কলা, মিষ্টি কুমড়া এবং বাদাম ইত্যাদিসহ হরেক রকমের ভর্তা। একই সাথে মুরগির গোশত। ক্ষুধার্ত শরীরে চিকন চালের গরম ভাত সাথে হরেক রকমের ভর্তা এ যেন মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টি।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা



