দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের পর অবশেষে গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও টিকিট বিক্রির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে। গত রোববার সকাল থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শ্রীপুরবাসীর মধ্যে।
এই সাফল্য উদযাপন করতে রোববার সকাল থেকেই শ্রীপুর রেলস্টেশনে ব্যান্ডপার্টিসহ আনন্দ-উল্লাস এবং পরে শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান সড়কে আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও ‘ব্রহ্মপুত্র ট্রেন যাত্রাবিরতি বাস্তবায়ন কমিটি’র প্রধান সমন্বয়ক তপন বণিক জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের অংশগ্রহণে দলমত নির্বিশেষে রেলপথ অবরোধসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করেছি আমরা। অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিতে সাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল থেকেই শ্রীপুর স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে, যা আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের সফল পরিণতি।’
শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি আমান উল্লাহ বলেন, শ্রীপুর ট্যুরিজম বাইকার্স যুব উন্নয়ন সংঘ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশ পাওয়ায় রেল বিভাগ যাত্রাবিরতির অনুমোদন দেয়। এতে তিন বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
স্পেশাল রেসপন্স টিমের (এসআরটি) সভাপতি জুবায়ের আহমেদ বলেন, শ্রীপুর থেকে সড়কপথে ঢাকা যেতে স্বাভাবিক সময়ে ২ ঘণ্টা লাগলেও যানজট ও পরিবহন সঙ্কটে সময় লাগে ৪ ঘণ্টারও বেশি। অথচ ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে মাত্র ১ ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুরে পৌঁছানো সম্ভব। এ কারণেই ট্রেনটির যাত্রাবিরতি শ্রীপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, শিল্প অধ্যুষিত শ্রীপুর থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঢাকা ও ময়মনসিংহে যাতায়াত করেন। রেলপথ চালু হওয়ায় যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। ভবিষ্যতে আরো আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেয়া হলে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার সাইদুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে শ্রীপুর ছাড়ে এবং সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছেড়ে রাত ৮টায় শ্রীপুরে পৌঁছায়। শ্রীপুর-কমলাপুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা। প্রথম দিনে নির্ধারিত ১০টি আসনভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ৬১টি স্ট্যান্ডিংসহ মোট ৭১টি টিকিট বিক্রি হয়।



