চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডে ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition
চাঁনখারপুল এলাকায় ৬ হত্যার রায় ঘোষণা উপলক্ষে আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় : নয়া দিগন্ত
চাঁনখারপুল এলাকায় ৬ হত্যার রায় ঘোষণা উপলক্ষে আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • সুজনের গুলিবর্ষণের ভিডিও প্রমাণ তবুও সাজা মাত্র ৩ বছর
  • রায়ে শহীদ পরিবার আহত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড হলেও আলোচনায় উঠে এসেছে কনস্টেবল সুজন হোসেনের সাজা। চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার ওপর সুজনের সরাসরি গুলিবর্ষণের ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও তাকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ের এই অংশে ন্যায়বিচার ক্ষুণœ হয়েছে দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে প্রসিকিউশন টিম।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সাজা বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে স্বীকার করেছেন যে, কনস্টেবল সুজন হোসেন ওই দিন গুলি চালিয়েছেন এবং উল্লাস প্রকাশ করেছেন যা প্রসিকিউশন ভিডিও তথ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তিনি অধস্তন কর্মচারী এবং উর্ধ্বতনদের কমান্ড মানতে বাধ্য হয়েছিলেন এমন যুক্তিতে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অসন্তোষ ও সমালোচনা রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সুজন হোসেনের সরাসরি গুলিবর্ষণের দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে। এমনকি তার নামে অস্ত্র ইস্যু না থাকলেও তিনি অন্যের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছেন। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর এমন লঘুদণ্ড ন্যায়বিচারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া বাকি দু’জন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো: আখতারুল ইসলাম।

এ মামলার আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো: সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গ্রেফতার চার আসামি আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে রায়ের সময় আদালতে হাজির করা হয়। বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচারকাজ চলে। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে বিচারকরা এজলাসে ওঠেন এবং ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় পড়া শুরু করেন।

রায় ঘোষণার সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: আবুল হোসেন, সিফাত হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন অভি।

পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর চানখাঁরপুল এলাকায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা যখন কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, সেই সময়ে পুলিশ সেই জায়গায় নির্বিচার গুলি করে ছয়জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে শাহরিয়ার খান আনাস, জুনায়েদসহ ছয়জন রয়েছেন।

‘এ ঘটনার মামলা হয়েছিল। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তি হয়েছে আগে। বাকি অংশে যারা গ্রাউন্ডে কাজ করেছিল তাদের বিচারের জন্য আজকে এই মামলাটি ছিল। সেই মামলাতে আজকে আদালত যেটা বলেছেন যে, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। তারা ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি করেছেন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

তাজুল বলেন, ‘এসি ইমরুল, ইন্সপেক্টর আরশাদ এবং বাকি তিনজন কনস্টেবল, যারা সরাসরি ফিল্ডে থেকে গুলিবর্ষণ করেছিল, যাদের গুলি বর্ষণ করতে ভিডিওতে দেখা গেছে, যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল না, অথচ তারা অন্যদের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছে তাদেরকে কম সাজা দেয়া হয়েছে। একজনকে ছয় বছর, একজন চার বছর, বাকি তিনজন কনস্টেবলকে তিন বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, আদালতে যখন তাদের অফেন্স প্রমাণিত হয়েছে, ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অ্যাটাক প্রমাণিত হয়েছে এবং এই আসামিরা (তারা) প্রকাশ্যে গুলি করেছিল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তাদেরকে যে সাজা দেয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটা ন্যায়সঙ্গত হয়নি। যদিও আদালতের আদেশ সবার ওপরই শিরোধার্য, আমাদেরকে মানতে হবে। যেহেতু একটা আপিলেট ফোরাম আছে, সুপ্রিম কোর্টে এটার বিরুদ্ধে, এই সাজার বিরুদ্ধে, কম সাজা যা দেয়া হয়েছে, সেই অংশটুকুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা আপিল করব।’ পুরো রায় পাওয়ার পর আরো পর্যালোচনা করে প্রসিকিউশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, যারা সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছে, তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরে সাজা অল্প হওয়াটা, এটা ন্যায়বিচারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে আমরা মনে করছি। সে কারণে আমরা মনে করছি যে এটা আপিল করা প্রয়োজন। কিন্তু বাকি তিনজনকে যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, সেটা যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি এবং আগেও শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, সেটাও যথার্থ বলে আমরা মনে করেছি।

যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়নি তাদের মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কি না প্রশ্ন করা হলে তাজুল বলেন, আমরা প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ডই চাইব। কারণ হচ্ছে যে, এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, এটা কোনো সাধারণ মার্ডার নয়। আমরা বারবার যা বলার চেষ্টা করছি যে, মার্ডারের ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে কার গুলিতে কে মারা গেছে। কিন্তু ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে হাজার হাজার রাউন্ড বুলেট নিক্ষিপ্ত হয়েছে। শত শত হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। হাজারও মানুষ শহীদ হয়েছে, এক হাজার ৪০০ শহীদ হয়েছেন। সেখানে কার গুলিতে কে মারা গিয়েছে সেটা প্রমাণ করা ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটির ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। এবং সেটা প্রমাণিত না হওয়ার কারণে কেউ সাজার থেকে রেহাই পেতে পারে না এটা হচ্ছে আইনের বিধান, ইন্টারন্যাশনালি রিকগনাইজড প্রিন্সিপাল। সুতরাং সেই জায়গায় সেন্টেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, সেটাকে আমরা মনে করছি এটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সাথে যাচ্ছে না। সে কারণেই আমরা আপিল করব।

সুজন হোসেনের গুলি করার দৃশ্য দেখা যাওয়ার বিষয়ে তাজুল বলেন, ‘আদালত এটা বলেছেন যে সে গুলি করেছে, সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, উল্লাস করেছে সবকিছুই কিন্তু আদালত বলেছেন যা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পেরেছে। এই ব্যাপারে কিন্তু অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। প্রসিকিউশন সাকসেসফুলি এই আসামিদের ইনভলভমেন্ট, তারা কে কী করেছে সবকিছু প্রমাণ করতে পেরেছে। কিন্তু আদালত যা বলেছেন, এরা কনস্টেবল ছিল, তাদের সুপিরিয়ররা তাদেরকে কমান্ড করেছে, তারা করতে বাধ্য হয়েছে এবং সুজনের ব্যাপারে বলেছে সে অল্প কিছুদিন আগে এসেছে, এসব বিবেচনায় তাকে কম শাস্তি দিয়েছে।

তাজুল বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, অনেকেই সেখানে গুলি চালিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয় নাই। এটি পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ওই দিন চানখাঁরপুলে ৪০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল। অবজারভেশন যা আছে আমরা দেখে বলব। কারণ হাজার হাজার পুলিশ ছিল, সবার বিরুদ্ধেই তো আর মামলা করা যাবে না। ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটিতে আমরা দেখেছি যে সবচেয়ে যারা বেশি এট্রোসাস কাজ করেছে, যারা কমান্ড দিয়েছে, অনেকে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা হয়তো এই গ্রুপের মেম্বার ছিল, কিন্তু সবাইকে মামলায় আসামি করাটা হয়তো যুক্তিসঙ্গত না, এটা মনে করেছে প্রসিকিউশন। শুধুমাত্র যারা সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধেই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল, তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছিল।

রায়ে শহীদ পরিবার আহত

এদিকে রায় ঘোষণার পর গতকাল দুপুরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, এ রায়ে শহীদ পরিবার আহত হয়েছি। কেননা ঘাতকের সরাসরি গুলির ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তাকে নামেমাত্র সীমিত সাজা দেয়া হয়েছে। রায়ে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এ সাজার ফলে নিহতদের পরিবার, বরং নিরাপত্তাহীনতাই ভোগবে।

অপরদিকে আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি বলেন, গুলি করা ব্যক্তিকে নামে মাত্র সাজা দিয়ে শহীদদের অপমান করা হয়েছে। আমার আনাসকে যে সরাসরি গুলি করল, তার মাত্র তিন বছরের শাস্তি। এটা মেনে নেয়া যায় না।

শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার বলেন, যে গুলি করছে। ভিডিও আছে তারে দিছে তিন বছরের সাজা। এই রায় আমরা মানি না। আমি আপনাদেরও (সাংবাদিক) আর কিছু বলব না। বিচার তো আর অইব না।’

শহীদ জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেন বলেন, জুনায়েদ ছিল আমার একমাত্র ছেলে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য যে জীবন দিয়েছে। এটা কী ধরনের ইনসাফ হইল। যারা আটক, গুলি করছে তাদেরকে দিয়েছে নাম মাত্র সাজা। আর যারা পালিয়ে গেছে তাদের দিয়েছে মৃত্যুদণ্ড। এটা কোনোভাবেই ইনসাফ না। উল্টো আমাদের জীবন এখন রিস্কে পড়ে গেল। আমি এই রায় মানি না। আমার সন্তানের রক্তের সাথে বেইমানির এই রায় মানি না। আল্লাহ সবার বিচার করব।

এ ট্রাইব্যুনালেই গত ২০ জানুয়ারি মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রায়ের জন্য ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দেন।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় রায় এটি। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। তাতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো: ইয়াকুব, মো: রাকিব হাওলাদার, মো: ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন; আহত হন অনেকে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিন ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে।

তদন্ত সংস্থা এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, দু’টি অডিও, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ছয়টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে। তাজুল ইসলাম সেদিন বলেন, এর মধ্যে একটি অডিও কল রয়েছে হাবিবুর রহমানের, যিনি পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়ারল্যাসের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্যদের। তার এই নির্দেশের পরই প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন পুলিশ সদস্যরা।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ওই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন।