আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমামের জন্মদিন

‘আশি বছরের প্রজ্ঞা’ নিয়ে বিশেষ ডিজিটাল আয়োজন

Printed Edition

এলামী মো: কাউসার কায়রো (মিসর) থেকে

কায়রোর আল-আজহার আল-শরিফ তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও প্রতীক, গ্র্যান্ড ইমাম অধ্যাপক ড. আহমেদ আল-তায়িবের আশিতম জন্মদিন উপলক্ষে এক বিশেষ ডিজিটাল উৎসবের সূচনা করেছে ‘আশি বছরের প্রজ্ঞা’ শিরোনামে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া যে, আন্তরিক অবদান কেবল সময়ের মাপকাঠিতে নয়, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব দ্বারা পরিমাপ করা হয়। প্রজ্ঞা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার সমন্বয়ে যে ইতিহাস তৈরি হয়, আল-আজহার সেই ইতিহাসকেই উদযাপন করছে।

আল-আজহারের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রচারাভিযানটি গ্র্যান্ড ইমামের আট দশকের এক ব্যতিক্রমী বৈজ্ঞানিক, মানবিক ও জাতীয় জীবনের পথচলাকে তুলে ধরছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রজ্ঞা ও মধ্যপন্থার এক অবিচল প্রতীক এবং ইসলামের সহনশীল বার্তার এক বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্যতিক্রমী কর্মময় জীবনের দলিল

এই ডিজিটাল আয়োজনে গ্র্যান্ড ইমামের ব্যক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক জীবনের নির্বাচিত দৃশ্যগুলো পরিবেশন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এমন একজন আলেমের গভীর মানবিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, যিনি তার জীবনের আশিটি বছর জ্ঞানচর্চা, প্রজ্ঞা এবং নিরবচ্ছিন্ন জনকল্যাণে অতিবাহিত করেছেন।

ড. আল-তায়িবের কণ্ঠস্বর আজ বিশ্বশান্তি ও মানবীয় সহাবস্থানের পক্ষে এক জোরালো সমর্থন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ভ্যাটিকান থেকে ওয়াশিংটন এবং মস্কো থেকে বেইজিং পর্যন্ত বিশ্বের প্রধান প্রধান রাজধানীতে তার এই বার্তা গুরুত্বের সাথে শোনা যায়।

আল-আজহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রচারণা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক জন্মদিনের উদযাপন নয়, বরং এটি এক ব্যতিক্রমী কর্মময় পথচলার দলিল তৈরির প্রচেষ্টা। গ্র্যান্ড ইমাম তার জীবনের আটটি দশক এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের সেবায়, এর সহনশীল বার্তা প্রচারে এবং জাতি গঠনে নিয়োজিত করেছেন। তিনি সহনশীলতা, মধ্যপন্থা, মধ্যপন্থী চিন্তাধারা এবং জাতির সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। এই বিশেষ ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে আল-আজহার শাইখুল আজহারের অসাধারণ অবদানকে স্মরণ করছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য তিনি যা করেছেন তা অবশ্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এই বছর প্রায় ১২০ জন অনিয়মিত ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছেন যারা কায়রোতে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করত। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশী বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত আসাকালে তাদের সাথে স্কলারশিপের সংখ্যা বাড়ানোর কাগজ দিয়েছেন এবং শাইখুল আজহার তথা গ্র্যান্ড ইমামের সেক্রেটারি ড. আহমেদ বারাকাত উনি জানিয়েছেন যে তিনি সহসাই বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশে তার অনেক ভক্ত অনুরাগী রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশে দুইটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়েছেন- একটি হচ্ছে যার চট্টগ্রামের সুফি মিজান কর্তৃক পরিচালিত রবে তাতুল আলামিয়া আল খিরিজিল আজহার এবং রাজশাহীতে সরাসরি মআহাদুল আজহার তথা আল-আজহার ইনস্টিটিউট। এটি বাংলাদেশে একমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান যেটি সরাসরি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এটি নার্সারি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চালু হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে আল-আজহারের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো হবে। এ ছাড়া সমমানের মর্যাদা দিয়েছেন রাজধানীর উত্তরায় দারুল আরকাম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের যেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করলে আল-আজহারে সরাসরি অনার্সে ভর্তি হয়ে যাবে।