ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাত গোলের জয়! প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক বল পাঠিয়ে ম্যাচ শেষ করেছে বাংলাদেশ। এমন শুরুর পরও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের কোচ আরিফ আলীর কণ্ঠে পুরোপুরি তৃপ্তি নেই। ম্যাচসেরা আইরিন আক্তার রিয়ার কথাতেও একই সুর। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে হারিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে শুভসূচনা করেও বাংলাদেশের মেয়েদের মনে হচ্ছে, গোলের ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত। বাংলাদেশের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, আত্মবিশ্বাসেরও। জুনিয়র এশিয়া কাপে এটি তাদের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। ২০২৪ আসরে নবম হয়েছিল দলটি। এবার শুরুতেই সাত গোলের জয় দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছে তারা।
চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গতকাল ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারেই বাংলাদেশ বুঝিয়ে দেয়, চায়নিজ তাইপের জন্য দিনটি সহজ হতে যাচ্ছে না। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও প্রথম ১৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ছিল ঘাটতি। ২০ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান। ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন কনা আক্তার। তবে গোল পাওয়ার পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ পুরোপুরি ধারালো হয়নি। বিরতিতে যাওয়ার আগেই পাঁচ-ছয় গোলের ব্যবধান তৈরি হতে পারত বলে মনে করেন কোচ আরিফ আলী।
হাফটাইমে তাই খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয় তাকে। ভুলগুলো নিয়ে কথা বলার পর দ্বিতীয়ার্ধে যেন বদলে যায় বাংলাদেশের খেলা। আক্রমণে গতি বাড়ে, ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বোঝাপড়াও উন্নত হয়। আর তার ফল দেখা যায় স্কোরবোর্ডে। তৃতীয় কোয়ার্টারে চায়নিজ তাইপের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। এই সময় চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। আইরিন আক্তার রিয়া ও নাদিরা এমা দুটি করে ফিল্ড গোল করেন। চায়নিজ তাইপের রক্ষণ তখন অনেকটাই ছন্নছাড়া।
চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশের আক্রমণের নেতৃত্ব নেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ৬-০ করেন তিনি। ছয় মিনিট পর আবারো পেনাল্টি কর্নার। এবারো সারিকার স্টিক থেকে বল জালে। অধিনায়কের জোড়া গোলে ৭-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
ম্যাচে দু’টি গোল করা আইরিন আক্তার রিয়া হন সেরা খেলোয়াড়। তবে বড় জয়ের পরও তার কণ্ঠে ছিল অপূর্ণতার সুর, ‘অবশ্যই জিতে ভাল লাগছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি কোয়ার্টারে অন্তত তিনটি করে গোল করার, সেটি হয়নি।’
১০ দলের এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ খেলছে চ্যালেঞ্জার পুলে। এই পুলে তাদের সাথে আছে পাকিস্তান, কাজাখস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং। অন্য দিকে এলিট পুলে রয়েছে স্বাগতিক চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া। চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।
৭ গোলের জয় দিয়ে শুরু হলেও বাংলাদেশের সামনে বিশ্রামের সুযোগ নেই। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে যে আক্রমণাত্মক হকির ঝলক দেখা গেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেটিই আরো ধারালো করতে চাইবে বাংলাদেশ!
পুরুষ হকিতে আজ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। পুরুষ দলের ম্যাচের পরপরই একই ভেনুতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। গত জুলাইয়ে ওমানে এএইচএফ কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা এই টুর্নামেন্টেও ধরে রেখেছে তাদের অবিশ্বাস্য ফর্ম। প্রথম ম্যাচের এই দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারা পাকিস্তানের বিপক্ষেও বজায় রাখতে আত্মবিশ্বাসী লাল-সবুজের নারী দল।



