নিশ্চয়ই রাস্তায় ফেলে রাখবে না : সালাহউদ্দিন

এশিয়ান গেমস আবাসন ক্যাম্প ও লক্ষ্য

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট আয়োজনের সুযোগ-সুবিধা ও আবাসন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন। এশিয়ান গেমসের আবাসন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই এই কোচের। ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। বরং অন্যান্য অ্যাথলেটরা যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ক্রিকেটাররাও সেটিই পাবেন, এমন ভাবনা থেকেই জাপানে যেতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

আবাসন নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আবাসন নিয়ে আমার কোনো উদ্বেগ নেই। এশিয়ান গেমস ভিলেজে অন্য অ্যাথলেটরা যে সুবিধা পাবেন, আমরাও সেটিই পাব। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আলাদা থাকতে হবে, এমনটা আমরা ভাবছি না। আমরা নিজেদের অ্যাথলেট হিসেবেই ভাবি। অন্য অ্যাথলেটরা যে সুবিধা পাবেন, আমরাও একই সুবিধা পাব। তারা নিশ্চই আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না। থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তাই এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি চিন্তিত নই।’

আবাসন নিয়ে ভাবনার চেয়ে জাপানের পরিবেশের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলাই সালাহউদ্দিনের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এবারের প্রতিযোগিতাটি নকআউট হওয়ায় ভুলের সুযোগ খুব কম। ‘আমরা ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছি। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকায় (বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সাথে) আছে। সামনে আমাদের অনেক ব্যস্ত সফর রয়েছে। তাই তাদের সামগ্রিক ফিটনেসের দিকেও নজর রাখতে হবে।’

এশিয়ান গেমস টি-২০ ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন। তার মতে, এই ফরম্যাটে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। ‘এটি নকআউট টুর্নামেন্ট এবং টি-২০তে যেকোনো দলই জিততে পারে। অন্য দলগুলোকেও হালকাভাবে নেয়া যাবে না। আমার মনে হয়, অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের বেশির ভাগ দলই এই ফরম্যাটে বেশি খেলে। ফলে এই জায়গায় তাদের কিছুটা সুবিধা রয়েছে। আমাদের প্রায়ই এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়। তাই টি-২০তে কাউকেই হালকাভাবে নেয়া যাবে না। প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্যেই খেলতে হবে।’

লক্ষ্য স্বর্ণপদক

জাপানে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে উইকেটের ধরন নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে চান না বাংলাদেশের দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। যে ধরনের উইকেটই পাওয়া যাবে, তার সাথে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছেন, স্বর্ণপদক। জাপানের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল না হলেও সেটিকে পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখার পক্ষে নন সালাহউদ্দিন। তার মতে, ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ‘ক্রিকেট খেললে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবার ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। যদি ১২০ রানের উইকেট হয়, তাহলে আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তাহলে সেটার সাথে মানিয়ে নিয়ে সেভাবেই খেলতে হবে।’

২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত সেটিই এশিয়ান গেমসে সব ক্রীড়া মিলিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র স্বর্ণপদক। এবার আইচি-নাগোয়ায় সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারলে তা পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন। ‘২০১০ সালে নারী ক্রিকেট দল রৌপ্য জিতেছিল এবং কাবাডিতে হয়তো এক বা দু’টি রৌপ্য আছে। এর বাইরে আমাদের বড় কোনো অর্জন নেই। বাংলাদেশ থেকে এবার বড় একটি দল যাচ্ছে। কিন্তু এমন ইভেন্ট খুব বেশি নেই, যেখানে আমরা আসলে পদক জিততে পারি। এ কারণেই ক্রিকেটকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আমরা চাই বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জিতুক।’