খালিদ সাইফুল্লাহ
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদক কমিশনার থাকার সময় প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। দোকানের সালামির টাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে দিতে বলায় বরাদ্দ আটকে যায়। দোকানটি এখনো নতুন কারো নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি এবং খালি অবস্থায় পড়ে আছে বলে জানা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শামীম মো: আফজাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক থাকাকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সের নিউ সুপার মার্কেটের ২২৩টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর ইফা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু তৎকালীন দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বা তার পরিবারের কারো নামে কোনো আবেদন না থাকলেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলে আরশাদ আদনান রনির নামে একটি দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য সে সময় ২২৩টি দোকান বরাদ্দ দিলেও এর মধ্যে ২০৭টি দোকানের বরাদ্দপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ সুযোগে একজন বরাদ্দপ্রাপ্তের পরিবর্তে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছেলের নামে পিছনের তারিখে আবেদন তৈরি এবং অন্য একজনের পে-অর্ডার সংযুক্ত করে বরাদ্দের নথি প্রস্তুতের চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট দোকানটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব পাশে নিউ সুপার মার্কেটের দক্ষিণ সারিতে অবস্থিত। সে সময় মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক ছিলেন মার্কেটের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন মজুমদার বাদল।
জানা যায়, ইফার ডিজি শামীম মো: আফজাল চাপে পড়ে একটি দোকান বরাদ্দ দিলেও দোকানের সালামি বাবদ ২২ লাখ টাকা জমা দেয়ার বিষয়টি সুরাহা হয়নি। কে এই অর্থ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। দুদুক পরিচালক মো: সাহাবুদ্দিন তখন দোকানের সালামির টাকাও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে দিতে বলায় বরাদ্দ আটকে যায়। একপর্যায়ে বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও উত্থাপিত হয় বলে জানা যায়। পরে সালামির অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় দোকানটির বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়নি।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট বিভাগের সাবেক একজন পরিচালক নয়া দিগন্তকে বলেন, শামীম মো: আফজাল ইফার ডিজি থাকা অবস্থায় এ বরাদ্দ দেয়া হয়। আমি পরে এ বিষয়টির ফাইল দেখেছি। সেখানে আরশাদ আদনান রনির পিতার নাম মো: সাহাবুদ্দিন রয়েছে। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা কানাঘুষাও চলতো। তবে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস করতো না বলে তিনি জানান।
তবে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন মজুমদার বাদল। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা মিথ্যা কথা।



