সংসদে নৌমন্ত্রী

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়

উপজেলা সদরে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার হবে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ী পুরোদমে চালু হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সময় বাঁচবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলাম। তিনি জানান, এই বন্দরে বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য মো: নূরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নৌমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮.৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং তিন হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য সামাল দিতে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সেখানে ১২-১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দরের চ্যানেল ১৬ মিটার গভীর এবং ৩৫০ মিটার প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরটি সচল করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটি চালু হলে আট হাজার ২০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনারবাহী জাহাজ বা তিন লাখ ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো হয়ে ছোট জাহাজে (ঋববফবৎ ঠবংংবষ) পণ্য আনতে যে বাড়তি খরচ ও সময় লাগে, মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হবে।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর আধুনিকায়নে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে-নৌমন্ত্রী : যশোরের অভয়নগর উপজেলার ‘নওয়াপাড়া নদীবন্দর’ সচলতা রক্ষা ও ভৈরব নদের নাব্য সঙ্কট স্থায়ীভাবে দূর করতে আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। যশোর-৪ আসনের সদস্য মো: গোলাম রসুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান।

কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫৪০ পদ শূন্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সারা দেশে চালু থাকা ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে ৫৪০টি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। জাতীয় সংসদে বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এসব ক্লিনিকে ১৩ হাজার ৯২০ জন সিএইচসিপি কর্মরত আছেন এবং ৫৪০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে মোট ২০ প্রকার চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। তবে স্ট্রিপসহ গ্লুকোমিটার, বিপি মেশিন, ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র, নেবুলাইজার, পালস অক্সিমিটার, ইউরোস্টিকস ও স্যানিটেশন সামগ্রী সরবরাহে কিছুটা অপ্রতুলতা রয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

প্রত্যেক উপজেলা সদরে হবে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার : সরকার প্রত্যেকটা উপজেলা সদরে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সংসদ সদস্য মো: আব্দুল গফুরের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে যাচ্ছি। সেই লক্ষ্যে ল্যাবরেটরির সব ইকুইপমেন্ট আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার উপরে এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যেগুলো ব্লাড এক্সামিনেশন করার দরকার, সেই মেশিন, এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন সেগুলো প্রত্যেকটা উপজেলায় আমরা করতে যাচ্ছি এবং কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

মানসিক সমস্যায় ৯২ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসা নেয়া না : মন্ত্রী আরো জানান, মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬.৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২.৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এবং তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা নেয়া না।

মো: আবুল কালামের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশে প্রতি এক লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১.১৭ জন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন।