৫ লাখ টাকা জরিমানা : ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ

ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ, তবুও জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। একই সাথে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরনো জাহাজ কাটার কাজ অব্যাহত রাখা হয়। ছাড়পত্র নবায়ন না করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে অধিদফতর।

১৪ আগস্ট, ওই ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ জাহাজে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আটজন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছিল; পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদফতরের বক্তব্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ায়। ঘটনাটি নিয়ে ইয়ার্ডটির নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদফতরের একটি বিশেষ তদন্ত দল ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ড পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কার্যক্রম চালানোর প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে তলব করা হয়। শুনানিতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে। এজন্য এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শুধু জরিমানা নয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ‘এমটি রাসি’ জাহাজের কাটিংসহ ইয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ওই জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে পারবে না।

এ দিকে একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। ফলে পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; আদালতেও এর আইনগত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। নতুন পরিবেশগত বিধিমালার অধীনে জাহাজভাঙা কার্যক্রমের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরো কঠোর হয়েছে। অতীতে ছাড়পত্র জটিলতার কারণে সীতাকুণ্ডের একাধিক ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাহাজভাঙার সময় পুরনো জাহাজের ট্যাংক বা আবদ্ধ অংশে দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। তাই কাটিংয়ের আগে গ্যাস পরীক্ষা, ট্যাংক পরিষ্কার, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রশিক্ষিত শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশগত ছাড়পত্রের পাশাপাশি এসব নিরাপত্তা শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।