নিজস্ব প্রতিবেদক
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গাজীপুর এলাকা পরিদর্শনকালে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সাথে ‘তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ মন্তব্য করেন।
গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সেনাপ্রধান ছাড়াও বক্তব্য দেন- নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
সেনাবাহিনী প্রধান এসময় বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম এবং সবাই আগ্রহী। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী- আমরা সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সেনাপ্রধান বলেন, এই সময়ে কিছু অর্থ লেনদেন হতে পারে বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে কথা বলেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বা ভোটের দিন কিছু অপরাধমূলক তৎপরতা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আশা করব, আমাদের বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। অপরাধীদের গ্রেফতার, মামলা বা যার যতটুকু অপরাধ, সেই অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ আয়োজনে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে দৃশ্যমান পেট্রোলিং করে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত, তারা যাতে কোনো অপরাধ ঘটানোর চিন্তাও না করে সেভাবেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধান বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সে উদ্দেশ্যে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে। বসে থাকা যাবে না, উপস্থিতি যাতে কার্যকরী হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা ২৪শের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিমানবাহিনী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তখন থেকেই; কিন্তু আমরা ওখানে অনেক জনবল দিয়ে রেখেছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ে হয়তো ৫০০ জনবল থাকবে। বাট আমাদের ফ্লাইং কন্টিনিউ করবে। এখানেও আমাদের প্রায় দুই হাজার লোক থাকবে। মোট তিন হাজার ৫০০ জনবল কাজ করবে। এইজন্য আমি বিভিন্ন ডিভিশনে আমরা আমাদের লোককে ভাগ করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আপনারা শুনেছেন যে আমাদের বিশেষায়িত ইউএভি আছে, সেনাবাহিনীর আছে। যে ইউএভি আমরা ডাইরেক্টলি ইউজ করব। ইনভেশনের সময় চট্টগ্রাম এরিয়াতে বিমানবাহিনী কাজ করবে। সেনাবাহিনী দেশের নর্থ এবং সেন্ট্রাল পার্টে কাজ করবে। এটা ডাইরেক্ট কানেক্টিভিটি আছে আমাদের। নির্বাচন কমিশনে আমরা লাইফ ফিড দিতে পারব। এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টারে আমাদের লাইফ ফিট থাকবে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন থেকে শুরু করে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে আমাদের এই তথ্যগুলো দিতে পারব। কোথাও কোনো অসুবিধা মানে ড্রোন। ড্রোন মানে আমাদের আনম্যান এয়ার ভেহকেল বলি বড় আকারের। যেটা আট ১০ ঘণ্টা ফ্লাই করতে পারবে। অনেক উচ্চতা থেকে পুরা চট্টগ্রাম এবং সিএসটি হিল ট্যাক্স এরিয়া কাভার করতে পারবে। আমাদের যতগুলো হেলিকপ্টার আছে এবং আমাদের ট্রান্সপোর্টের সব স্ট্যান্ডবাই আছে বিশেষ করে আমরা এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সেসবাজার এবং যশোর এই চারটা ব্রিজে রাখব। এখান থেকে আমরা সারা দেশকে কাভার করতে পারব। যেখানে যেখানে প্রয়োজন হবে। আমরা বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, তাদের এলাকাতে যত হেলিপ্যাড আছে এগুলোকে সচল রাখার জন্য। প্রয়োজন হলে আমরা হেলিকপ্টারে যাতে ল্যান্ড করতে পারি। এ ছাড়াও ভিভিভিআইপি এবং ভিআইপি অন্য কোনো যদি মুভমেন্ট থাকে সেটার জন্য আমাদের বিআরপি হেলিকপ্টার সর্বদা প্রস্তুত থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্স মোতায়নের জন্য বিমান বাহিনী কর্তৃক যেকোনো ট্রান্সপোর্ট এটা রেডি আছে, যদি এডিশনাল ফোর্স রিইনফোর্স করতে হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গাজীপুর সফরকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। তিন বাহিনী প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধবের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।



