মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), টিআর ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ও অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগছে না বরং প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, বংশীকুণ্ডা উত্তর-দক্ষিণ, চামড়দানি ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে নি¤œ মানের কাজ, কোথাও নামমাত্র মাটি ফেলা, আবার কোথাও কাজ সম্পন্ন না করেই বরাদ্দের চাল ও অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পের কাজে শ্রমিক নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে মাটি খনন যন্ত্র ব্যবহার করে কাজ দেখিয়ে মাস্টার রোল তৈরি করে খাদ্য ও অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কাবিখা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু অনিয়মের কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে সরকারি উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো বাদ দিয়ে কম প্রয়োজনীয় প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বহুবার আবেদন করেও কোনো বরাদ্দ পাইনি।’ অন্য দিকে রাঙ্গামাটি এলাকায় একটি কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়ে সামান্য কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
একাধিক গ্রামবাসী জানান, সাইনবোর্ডে ১০-১২ মেট্রিক টন চাল বা গমের বরাদ্দ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে ১-২ মেট্রিক টনের সমপরিমাণ। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, কিছু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন এবং সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানাবেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।



