গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একের পর এক ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় পুলিশ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নির্লিপ্ততা এবং যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, মিছিল করছেন এবং অর্থায়ন করছেন; অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। বরং গাছা থানা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিমকে দু’বার গ্রেফতারের পরও ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর বরকত সরণিতে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আলী নাসের খান বলেন, ‘দেশের জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গাজীপুরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছে। অথচ এখন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে মিছিল করছে। পুলিশ আগে থেকেই তথ্য পেয়েও এসব মিছিল ঠেকাতে পারছে না।
গাজীপুরে সাম্প্রতিক কয়েকটি মিছিলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২১ মে গাছা থানায় যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ২১ জুন বাসন থানায় মহানগর ছাত্রলীগ, ৩ জুলাই রাজেন্দ্রপুরে ছাত্রলীগ, ১৬ জুলাই বাসন থানায় ছাত্রলীগ এবং সর্বশেষ ২৬ জুলাই গাছা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে। এসব মিছিলের বিষয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া হয়েছে। ওসিরা মিছিলের সময় জানতেন। তার পরও তারা কিভাবে মিছিল প্রতিহত করতে পারলেন না এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সংগঠকদের গ্রেফতার করলেন না- এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মোলনে গাজীপুর-১ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান ও গাজীপুর-৩ আসনের ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চুরও আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে নীরবতার জন্য সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারেক, জাতীয় কৃষকশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান খোকন, মহানগর যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম মাস্টার, গাছা থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



