বাণিজ্যমেলায় শীত ও ঘন কুয়াশায় দর্শনার্থী কম

Printed Edition
শীত ও ঘন কুয়াশায় ক্রেতা-দর্শনার্থীবিহীন বাণিজ্যমেলার প্রধান ফটক : নয়া দিগন্ত
শীত ও ঘন কুয়াশায় ক্রেতা-দর্শনার্থীবিহীন বাণিজ্যমেলার প্রধান ফটক : নয়া দিগন্ত

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমন কম। তবে ব্যবসায়ীরা এবার স্বপ্ন দেখছেন পণ্য বিক্রি হবে বেশি। দর্শনার্থীরা এখনো কেনাকাটার চেয়ে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে ঘুরে পছন্দের পণ্য দেখেই সময় পার করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গত বছরের চেয়ে এবার মেলার শুরুতেই উদ্বোধনের দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। এখন ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখলেও শিগগিরই পুরোদমে বেচাকেনাও শুরু হবে। পারিপার্শিক অবস্থা অনুকূলে থাকায় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের স্থায়ী ভেনু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিউশন সেন্টারে পঞ্চমবারের মতো বসেছে বাণিজ্যমেলা।

মেলায় এবার পলিথিন-প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। থাকছে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলায় ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

গত ৩ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধনের দিন বিকেলে টিকিট কেটে তিন হাজার ৪৫৩ জন দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেছেন। গতকাল ৪ জানুয়ারি রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকিট কেটে দুই হাজার ৮৯৬ জন দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেছে। এবার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মেলার কয়েকটি স্টল এখনো নির্মাণাধীন। শেষ মুহূর্তে কারিগররা স্টিল নির্মাণে ব্যস্ত। হাতুড়ির টুংটাং আওয়াজ বিদ্যমান। মেলা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এমন সুন্দর পরিবেশে দর্শনার্থীদের কেউ ছবি তুলছেন। কেউ ভিডিও লাইভে এসে স্বজনদের দেখাচ্ছেন। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশের স্থায়িত্ব চান ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। মেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত ঢাকা বাইপাস সড়ক ধুলাবালুতে পরিপূর্ণ। গাড়ি চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৭টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, গৃহসামগ্রী, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, ক্রোকারিজ, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম ডেকর, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খেলনা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরনের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য থাকছে ব্যাংকের একাধিক বুথ। মেলায় আসা শিশুদের জন্য থাকছে দুইটি শিশুপার্ক। সতর্ক অবস্থায় থাকবে একাধিক পুলিশের টিম। রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার লোকজন যেন নির্বিঘেœ মেলায় আসতে পারেন সে জন্য অন্যান্য বছরের মতো থাকছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

মিয়াকো ইলেকট্রনিক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি ছাবিরুল আলম বলেন, শীত আর ঘন কুয়াশা কমলেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে মেলা জমজমাট হয়ে উঠবে।

ভারত থেকে আসা শীতের কাপড় বিক্রির স্টলের কর্মচারী তারক নাথ সাহা বলেন, স্টল ও প্যাভিলিয়নের কর্মচারীদের থাকা-খাওয়ার সমস্যা। কম দামে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হতো। বাড়তি দাম এড়াতে কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে খাচ্ছেন।

হাজী বিরিয়ানির পরিচালক আলহাজ আনোয়ার হোসেন বলেন, উদ্বোধনের দিনই বোঝা গেছে এবার মেলা জমে উঠবে। তবে শীত আর ঘন কুয়াশায় ক্রেতা-দর্শনার্থীরা এখনো মেলায় আসতে শুরু করেননি। পণ্য বিক্রি তেমন না হলেও বিক্রয়কেন্দ্রে আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে।