বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। কারণ কিছু রাজনৈতিক নেতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা ভিভিআইপি প্রটোকল সুবিধা পাচ্ছেন। এতে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় ও বৈষম্য বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুচ্ছ ও সংশোধনযোগ্য ভুলের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈষম্য এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আগারগাঁওস্ত নির্বাচন ভবনে গতকাল সিইসির সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন কারণে গ্রহণ করা হয়নি। এসব কারণের মধ্যে অনেকটিই ছিল তুচ্ছ ও সংশোধনযোগ্য। নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল, ছোটখাটো সংশোধনযোগ্য ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, তাদের এক প্রার্থীর এক মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল, যার পরিমাণ এক হাজার টাকার নিচে। শুধু এ কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আরেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ব্যাংকে নতুন হিসাব খোলা ও স্টেটমেন্ট জমা দেয়ার পরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ব্যাংক হিসাব খোলার তারিখ উল্লেখ না করাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রে একাধিক স্থানে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক-দু’টি জায়গায় স্বাক্ষর না থাকায় কিংবা ক্লারিক্যাল ভুলের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অতীতে এসব ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেয়া হলেও এবার তা দেয়া হয়নি।
ইসলামী আন্দোলনের এ নেতা বলেন, ঋণখেলাপি হওয়া, মামলা থাকা, তথ্য গোপন করা বা সম্পদের তথ্য না দেয়ার মতো যৌক্তিক কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যে বিষয়গুলো সহজেই সমাধানযোগ্য, সেসব কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অনিয়মের শামিল।
বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসাম্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হলে প্রার্থীর ভাবমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানির সৃষ্টি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতির বিষয়েও কথা হয়েছে জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের গতি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।



