বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ফাইনালের পথে আরেক পা এগোলো আর্জেন্টিনা

১০ জনের সুইসদের হারালো মেসির গোল ছাড়াই

Printed Edition
সুইজারল্যান্ডের জালে বল পাঠালেন জুলিয়ান আলভারেজ। এই গোলটিকেই ধরা হয় জয়ের নির্ণায়ক। সতীর্থদের নিয়ে বাঁধভাঙা উদযাপন তো হবেই : ইন্টারনেট
সুইজারল্যান্ডের জালে বল পাঠালেন জুলিয়ান আলভারেজ। এই গোলটিকেই ধরা হয় জয়ের নির্ণায়ক। সতীর্থদের নিয়ে বাঁধভাঙা উদযাপন তো হবেই : ইন্টারনেট

ম্যাচের ১১ মিনিটেই আর্জেন্টিনার গোল। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড সুইজারল্যান্ডের জালে। তখন মনে হচ্ছিল হয়তো এই ম্যাচে সহজ জয়ই পাবে আর্জেন্টিনা। খেলা শেষে ৩-১ স্কোর লাইন দেখলেও সরাসরি ম্যাচ না দেখা যে কারোরই মনে হবে, সহজেই তো ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে ল্যাটিন দেশটি। তবে যাদের চোখ টিভি পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখা থেকে সরেনি এবং যারা কানসাস সিটির গ্যালারিতে ছিলেন, তারা জানেন কী ঘামই না ঝরাতে হয়েছে লিওনেল মেসিবাহিনীকে। এই জয়ের ফলে সেমিতে আর্জেন্টিনা পাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। আর সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলকে বিশ্ব ফুটবলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসতে আরো চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোতে যতবার আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মোকাবেলা, প্রতিবারই সফল ল্যাটিন দেশেটি। সে ধারাই অব্যাহত থেকেছে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে। তবে এই জয়ের আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল মিসর ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে কোনোমতে পার পেলেও এবার আর রক্ষা নেই। লিড নেয়ার পরও আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিল না আলবিসেলেস্তেরা। পিছিয়ে পড়া সুইজারল্যান্ড গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। তাদের এই চাপের মুখে খেলা দেখে মনেই হচ্ছিল না এই আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। মাঝ মাঠ জুড়ে সুইসদের দাপট। এতে ছন্নছাড়া মেসিদের মাঝমাঠের প্রহরীরা। রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজরা কোনো পাত্তাই পাচ্ছিল না। এই সুযোগে ২০ ও ৩১ মিনিটে দু’টি গোলের সুযোগ তৈরি করে সুইজারল্যান্ড। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও কার্যত খোলসবন্দী মনে হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলকে। ৪৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোল পায়নি নাহুয়েল মলিনার দোষে। তিনি ফাঁকায় দাঁড়ানো জুলিয়ান আলভারেজকে পাস না দিয়ে নিজেই গোল করার চেষ্টা করেন। এতে না তিনি গোল করতে পেরেছেন, না জুলিয়ার আলভারেজ গোল করতে পেরেছেন। এরপর ফের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তিন দফা সেভ করেন। তখন মনে হচ্ছিল সুইজারল্যান্ডের গোল করাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেই গোলই তারা পেয়েছে ৬৭ মিনিটে। এবার আর দলকে রক্ষা করা হয়নি মার্টিনেজের। ড্যান এনডোয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরীকে।

সমতা ফেরার পর আরো উজ্জীবিত সুইস ফুটবলাররা। ঠিক তখনই তাদের আক্রমণভাগের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোকে রেফারি লাল কার্ড দেখান। এম্বোলোকে ফাউল করেছেন এই যুক্তিতে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। পরে ভিএআর দেখে এম্বোলো ফাউলের অভিনয় করেছেন, যা গুরুতর অপরাধ। ফলে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। যা সাথে সাথে লাল কার্ডে পরিণত হয়। তার প্রথম হলুদ কার্ড ছিল এই পারেদসেকে ফাউল করার জন্য।

এতক্ষণ দুর্দান্ত খেলা মুরাদ ইয়াকিনের দল এই লাল কার্ডের পর ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তাদের পক্ষে আর এক খেলোয়াড় কম নিয়ে লড়াই করা যাচ্ছিল না। তাই রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। তাদের এই রক্ষণপ্রাচীর আর ভাঙতে পারছিলেন না মেসিবাহিনী। ৮৯ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের ক্রসে ম্যাক এলিস্টারের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নির্ধারিত সময় ১-১ এ সমতা থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে মেসির ডান পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ৯৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সাইড ভলি সুইস কিপার গিগর কুবেল ডান দিকে ঝাপিয়ে পরে দলকে রক্ষা করেন। ৯৩ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শটেও বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক কুবেল। এরপর ১১২ মিনিটে আর্জেন্টিনার মুক্তির আনন্দ। বক্সের কোণা থেকে নেয়া জুলিয়ান আলভারেজের বাঁকানো শট ভেঙে দেয় গিগর কুবেলের সমস্ত প্রতিরোধ। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। ২-১ এ এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এরপর ১২১ মিনিটে অর্থাৎ যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা শট। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এক সতীর্থের শট সুইস গেলরক্ষকের হাত থেকে ফসকে বের হয়ে গেলে লাউতারো মার্টিনেজ ছুটে গিয়ে তা জালে পাঠান। আর এতেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় সুইজারলান্ড। মেসিরা বুধবার রাতে সেমিতে মোকাবেলা করবে ইংল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সাতবার কোয়ার্টার ফাইনালে হারা দল ইংল্যান্ড। কাল এই সংখ্যা আটে উন্নীত হতো যদি নরওয়ে তাদের বিপক্ষে জয় তুলে নিত। আগে গোল হজম করলেও শেষ পর্যন্ত ইংলিশদের আগের সাত কোয়ার্টারের পুনরাবৃত্তি হতে দেননি জোড়া গোল করা জুড বেলিংহাম। নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে ১৯৬৬ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।