ইমদাদুল হক পাইকগাছা (খুলনা)
চার দিকে উন্নয়নের কত কথা শোনা গেলেও খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা এলাকার চিত্র ঠিক উল্টো। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত এই পথটি এতটাই জরাজীর্ণ যে, এ রাস্তায় চলাচল করতে নাভিশ্বাস ওঠে গ্রামবাসীর।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটি পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রধান পথ। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ এটি কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। আগে কোনোমতে ইটের সলিং করা হলেও এখন আর তার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। কোথাও ইট উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও রাস্তা উঁচু-নিচু হয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ভাঙা ইটের স্তূপ আর খানাখন্দের কারণে ভ্যান বা ইজিবাইকের মতো যানবাহনগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তাটির এমন বেহালদশা দেখার যেন কেউ নেই। ভ্যানচালক আবদুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে জান হাতে নিয়ে চলা। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনিতে গাড়ি নষ্ট হয়, আমাদের হাড়গোড়ও ব্যথা হয়ে যায়। এভাবে চলতে গিয়ে আয়-রোজগারও কমে গেছে। ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী বলেন, ভোটের সময় নেতারা এসে অনেক বড় বড় আশা দেয়, কিন্তু কাজ হয় না। এই ভাঙা রাস্তা কি তাদের চোখে পড়ে না?
গৃহবধূ রহিমা বেগম জানান, বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে এই রাস্তা দিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গাড়ি উল্টে নতুন করে বিপদে পড়ার ভয়ে থাকি। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত পিচঢালাই বা পাকা করা হোক। এই রাস্তা ঠিক না হওয়ায় পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা থমকে আছে।
এ বিষয়ে সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পীযূষ কান্তি মণ্ডল বলেন, রাস্তাটির খারাপ অবস্থার কথা আমরা জানি। গ্রামবাসীদের দুর্ভোগের কথা ভেবেই আমরা ওপরের মহলে জানিয়েছি। সরকারি বরাদ্দ পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু করা হবে।



