নাবালক বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের

Printed Edition

রয়টার্স

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী নাবালকদের অবিলম্ব মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার দেয়া এই রায়ে আবেদনকারীদের উত্থাপিত পুলিশি বর্বরতার অভিযোগের মুখে কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের নজরদারি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আদেশ দিয়েছে আদালত।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিক্ষোভে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীদের ডিজিটাল ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে তা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার নির্দেশ জারি করেছেন। রাজধানী দিল্লি ও বিভিন্ন শহরে সপ্তাহব্যাপী চলা এই আন্দোলন দমনে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর পেলেট বন্দুক ব্যবহারসহ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকর্মীরা। সেই পিটিশনের প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি ড্রোন, বডি ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের রেকর্ডকৃত ভিডিও সংরক্ষণের তাগিদ দেন, যাতে বিক্ষোভকারীদের কোনো তথ্য প্রকাশ্যে না আসে।

আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর রিপোর্ট তুলে ধরে আদালতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেন, আইন ভাঙার অপরাধে বা নিরপরাধ মানুষের ওপর যে বা যারাই অত্যাচার চালিয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতে বিচার করবে। তবে এর জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত আবশ্যক। তিনি স্পষ্ট করেন, দায় নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে সে ধরনের তদন্ত সম্পূর্ণ অর্থহীন। অন্যদিকে, বিক্ষোভ সামলাতে গৃহীত পুলিশের ভূমিকা ও পদক্ষেপকে আইনি জনতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে সওয়াল করেছে সরকার। ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানায়, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, তবে আন্দোলনের সহিংসতায় প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। ফলে এই পুরো বিষয়ে তদন্ত পরিচালনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই বলে তিনি জানান।

জাতীয় মেডিক্যাল কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নজিরবিহীন তরুণ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতির পর্যালোচনায় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সব প্রধান দাবি মেনে নিলে গত শনিবার আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশি মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি।