সোনারগাঁওয়ে ছয় মাসে ৯ হত্যা, ৬ ডাকাতি ও ২ ধর্ষণ

Printed Edition
সোনারগাঁওয়ে ছয় মাসে ৯ হত্যা, ৬ ডাকাতি ও ২ ধর্ষণ
সোনারগাঁওয়ে ছয় মাসে ৯ হত্যা, ৬ ডাকাতি ও ২ ধর্ষণ

হাসান মাহমুদ রিপন সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় গত কয়েক মাসে ধারাবাহিক হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

থানা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে উপজেলায় অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ড, ৬টি ডাকাতি, ১৩টি ছিনতাই, ২টি ধর্ষণ এবং একটি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের তৎপরতা বেড়েছে এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর উপজেলার কাইকারটেক এলাকায় একটি বস্তার ভেতর থেকে রেস্টুরেন্টকর্মী সায়মা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। গত ২৮ নভেম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বিজয়নগর এলাকা থেকে রিজওয়ান নামে এক অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার হয়। একই দিন চৈতি কম্পোজিট কারখানার বিপরীত পাশ থেকে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর শম্ভুপুরা ইউনিয়নের একরামপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ওমর নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ জানুয়ারি প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক সোহেল রানার লাশ জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আগের দিন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এরপর গত ৩০ জানুয়ারি মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী এলাকায় নাঈম নামে এক যুবককে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, সুদের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুণ্ডা এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ১ মার্চ কাঁচপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি ডোবার পাশ থেকে এক কিশোরের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দুই মাস আগে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।

হত্যাকা-ের পাশাপাশি উপজেলায় ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে যাত্রী ও গাড়িচালকদের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত কয়েক মাসে সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

নারী নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করছে সোনারগাঁও বাসিন্দাদের। গত ২৮ নভেম্বর কাঁচপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাইন এলাকায় এক ভিক্ষুক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে ২ মার্চ সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রহমতকে স্থানীয়রা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়ের ভূমিকায় থাকে।’ তবে সোনারগাঁও থানার ওসি মো: মহিববুল্লাহ বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি থানায় নিয়মিত মামলা হচ্ছে।’ ওসি বলেন, ‘বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’