কালকিনির মাহমুদিয়া মাদরাসার ১০ শতাংশ জমির দলিল গায়েব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুরের আন্ডারচর মাহমুদিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার জন্য প্রায় ৩০ বছর আগে কেনা ১০ শতাংশ জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৯৯৫-৯৬ সালে স্থানীয় মরহুম জয়নাল সরদারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকায় ওই ৩০ শতাংশ জমি কেনা হয় সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুখলেসুর রহমানের (মরহুম) সময়। হাতে সময় কম ছিল বলে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে সাব-কবালা না করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জয়নাল সরদারের স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি রেজুলেশন বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়।

মাদরাসার শিক্ষক মো: এমদাদ হোসেন, মাওলানা মো: হাবিবুর রহমান (বর্তমান ভাইস প্রিন্সিপাল), মো: আবু সালেক ও আব্দুর রহিম মাস্টারসহ স্থানীয় কয়েকজন জমির টাকা লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলেন। তাদের কয়েকজনের দাবি, তারা পরবর্তী সময়েও ওই নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পটি দেখেছেন; কিন্তু জয়নাল সরদারের ছেলেদের বলছেন, তাদের বাবা মাদরাসার কাছে কোনো জমি বিক্রি করেননি।

মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মো: শাজাহান জয়নাল সরদারের মেয়ের জামাই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যেহেতু শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, জয়নাল সরদার মাদরাসার কাছে কোনো জমি বিক্রি করেননি সে কারণে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে তিনি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পটি গায়েব করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মাওলানা মো: শাজাহানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আল্লাহকে হাজির-নাজির বলে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, জয়নাল সরদারের কাছ থেকে জমি কেনার কোনো নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প মাদরাসায় নেই, তিনি কখনো দেখেননি তবে তখনকার গভর্নিং বডির রেজুলেশন রয়েছে। যারা এই অভিযোগ করেছেন তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এ দিকে আরেক শিক্ষক মোস্তফা জামাল জানিয়েছেন, ১০ শতাংশ জমির রেজুলেশনটি দেখেছেন। তিনি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের দলিল দেখেননি তবে শুনেছেন একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের দলিল করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে জয়নাল সরদারের ছেলে আব্দুর রহমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করার পর একটি সমঝোতার মাধ্যমে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পটি গায়েব করা হয় এবং তার স্ত্রীকে মাদরাসায় অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, তারা কথা বলেননি বলে। এ দিকে বর্তমান অধ্যক্ষের অবসর ঘনিয়ে আসায় জমিটি ভবিষ্যতে বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাদের অভিযোগ, বর্তমান রেজুলেশন বইও অধ্যক্ষ কাউকে দেখতে দিচ্ছেন না। দ্রুত রেজুলেশন বই, জমির রেকর্ড ও পুরনো নথি যাচাই করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পটি উদ্ধারের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহার দাবি জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, ১০ শতাংশ জমিটি মাদরাসার দখলে আছে এবং এখানে একটি ভবনও করা হয়েছে।