নতুন অধ্যায়ে রোনালদো-জর্জিনা

Printed Edition
বিয়ের আংটি হাতে ক্যামেরার সামনে রোনালদো ও জর্জিনা : ইন্টারনেট
বিয়ের আংটি হাতে ক্যামেরার সামনে রোনালদো ও জর্জিনা : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জীবনে ১১ আগস্ট ২০২৬ দিনটি হয়ে থাকল বিশেষ। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পর্তুগিজ মহাতারকা বিয়ে করেছেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে। ৪১ বছর বয়সী আল নাসরের অধিনায়ক ক্লাবের ২০২৬-২৭ সৌদি প্রো লিগ মৌসুম শুরুর মাত্র চার দিন আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রায় ২০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত উপকূলীয় রিসোর্ট শহর কাসকাইসে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল। বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছে রোনালদোর ম্যানেজমেন্টও।

রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরুটা ছিল অনেকটাই সাধারণ। ২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। সেখানেই রোনালদোর সাথে পরিচয়। প্রথম দেখার পরই তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা রোনালদো, আর ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন জর্জিনা। ওই বছরই শেষ দিকে প্যারিসের ডিজনিল্যান্ডে এক সাথে ঘুরতে দেখা যায় দু’জনকে। সেটিই ছিল তাদের সম্পর্কের প্রথম প্রকাশ্য ইঙ্গিতগুলোর একটি। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডসে রোনালদো ও তার ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের সাথে লাল গালিচায় হাজির হন জর্জিনা। এটিই ছিল তাদের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতি। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সম্পর্কে রূপ নেয়।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। ২০১৭ সালেই তাদের প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। তবে জর্জিনার পরিচয় শুধু রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে নয়। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে জন্ম নেয়া জর্জিনা বেড়ে ওঠেন স্পেনে। শৈশব ও কৈশোর পেরিয়ে তিনি নানা কাজের মধ্য দিয়ে নিজের জীবন গড়ার চেষ্টা করেন। গুচির দোকানে কাজ করার সময় রোনালদোর সাথে পরিচয়ের পর তার জীবন দ্রুত বদলে যায়। মডেলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফ্যাশন জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। পরে গুচি, প্রাডা, শ্যানেলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ম্যাগাজিনেও জায়গা করে নিয়েছেন।

জর্জিনার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায় নেটফ্লিক্সের ‘আই অ্যাম জর্জিনা’ সিরিজের মাধ্যমে। সেখানে নিজের জীবন, পরিবার, রোনালদোর সাথে সম্পর্ক এবং তারকা জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। সিরিজটি তাকে শুধু ফুটবলারের সঙ্গী নয়, বরং নিজস্ব ব্র্যান্ড ও পরিচয় তৈরি করা একজন মডেল, ইনফ্লুয়েন্সার ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখে।

অন্য দিকে পর্তুগালের মাদেইরায় বেড়ে ওঠা রোনালদো স্পোর্টিং সিপি থেকে পেশাদার ফুটবলের বড় মঞ্চে আসেন। এরপর ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে নিজেকে বিশ্বমানের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে তার বিকাশ ছিল দ্রুত ও নাটকীয়। ২০০৮ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ফুটবলের সেরা ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।

২০০৯ সালে রোনালদো যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে তার ক্যারিয়ার হয়ে ওঠে আরো উজ্জ্বল। অসংখ্য গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাফল্য এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারের মাধ্যমে রিয়ালের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অর্জনগুলোর একটি। এরপর ২০১৮ সালে তিনি জুভেন্টাসে পাড়ি জমান। ইতালিতেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।

রিয়াল-জুভেন্টাস অধ্যায়ের পর রোনালদো আবার ফেরেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তবে সেই প্রত্যাবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেন। ইউরোপের বাইরে গিয়েও গোল করার ক্ষুধা কমেনি তার। বরং সৌদি ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ হয়ে ওঠেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়েও তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মাঝেই জর্জিনা হয়ে ওঠেন রোনালদোর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবশেষে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট আসে বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগদানের খবর জানান জর্জিনা। এরপর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই জোরালো হয় বিয়ের গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত গত পরশু কাসকাইসে ঘনিষ্ঠ পরিসরে বিয়ে করে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান রোনালদো ও জর্জিনা।