বরিশালের চরকাউয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন শুরু

নয়া দিগন্তের খবর প্রকাশের পর

Printed Edition

খালিদ সাইফুল্লাহ বরিশাল ব্যুরো

জলাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন অনাবাদি হয়ে পড়া কৃষিজমি উদ্ধার ও খালে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বরিশালে বিএডিসির উদ্যোগে খাল খননকার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘ইউপি চেয়ারম্যানের আক্রোশে ২০০ একর ফসলি জমি অনাবাদি’ এবং ‘একটি বক্স কালভার্টের কারণে ৫০০ একর ফসলি জমি অনাবাদি’ শীর্ষক সংবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তখন সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সরেজমিন চরকাউয়া এলাকা পরিদর্শন করে অপরিকল্পিত কালভার্টের কারণে প্রায় আড়াই হাজার একর জমির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং দ্রুত প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন।

গত মঙ্গলবার বর্তমান জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন খাল খননকার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বরিশাল-ভোলা-ঝালকাঠি-পিরোজপুর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বিলের পোল থেকে নাপিত বাড়ি পর্যন্ত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় দুই কিলোমিটার স্বনির্ভর খাল খনন করা হচ্ছে। একই সাথে প্রায় ১২ বছর আগে ভেঙে পড়া একটি কালভার্ট পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বরিশাল অঞ্চলের ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং, বিএডিসির পিডি ওয়াহিদ মুরাদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ খান, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বি ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক।

বিএডিসি বরিশাল কার্যালয় সূত্র জানায়, ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৯ ফুট গভীরতায় খালটি খনন করা হবে এবং এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই হাজার একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে। বিএডিসি জানায়, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক জানান, কেবল চরকাউয়া ইউনিয়নেই এই প্রকল্প সফল হলে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকার ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম মিয়া ও আজাহার আলী জানান, পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিন অনাবাদি জমি আবার চাষের আওতায় আসবে এবং সেচসুবিধা বাড়ায় কৃষকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।