সপ্তাহের শেষদিনে সূচকের অস্থির আচরণ

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে লেনদেনে ধীরগতি

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

বরাবরই সংশোধন পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজার ভালো যায়। নতুন শক্তিতে বাজার আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। গতকালও তাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সৃষ্টি হয় বিক্রয়চাপ। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে দুই বাজারেই সূচকের অবনতি ঘটে। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে এ চাপ সামলে নেয় বাজারগুলো। আধঘণ্টার মধ্যে হারানো সূচকের পুরোটা ফিরে পায় বাজারগুলো। কিন্তু এ অবস্থা বেশিক্ষণ টেকেনি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফের বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে আবার সূচকের অবনতি ঘটে। অবশ্য অস্থিরতা কাটিয়ে দিনশেষে দুই বাজারই সূচকের কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। পাঁচ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ৮৯৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪৯ ও ৩ দশমিক ৩০ পয়েন্ট। অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এ দিন ৫১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১৩ ও ৪০ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

এ দিকে লেনদেনের শেষদিকে এসে সূচকের উন্নতি ঘটলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া বিক্রয়চাপ সূচকের যে অস্থির আচরণ ছিল তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। লেনদেনে সতর্ক অবস্থান নেন তারা। এর ফলে দিনের শুরু থেকেই গতি হারায় বাজার। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল এক হাজার ৪৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ২৯৯ কোটি টাকা কম। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেনে কিছুটা উন্নতি ঘটে। গতকাল সিএসইর লেনদেন ছিল ৪৬ কোটি টাকা যা আগের দিন অপেক্ষা ৯ কোটি টাকা বেশি।

দিনের বাজার আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক একজন পরিচালক নয়া দিগন্তকে বলেন, পুঁজিবাজার এ মুহূর্তে খুব ভালো করছে। বাজারে অযৌক্তিক কোনো আচরণ দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। বাজারে সূচকের উন্নতি যেমন স্বাভাবিক তেমনি একই সাথে সংশোধনও ঘটছে। বিনিয়োগকারীদের এ সময় বাজারের সাথে মানিয়ে চলতে হবে। ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সাথে প্রয়োজন ধৈর্যের। এ দু’টি একসাথে ঠিক থাকলে এবার পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশ করবে না। কিন্তু গুজব বা কানকথায় বিশ^াস করে দ্রুত মুনাফার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করলে কেউ তার দায় নেবে না।

গতকাল দিনের শুরুতে ভালো কোম্পানিগুলো দর হারালেও শেষদিকে এসে এগুলোই ভালো অবস্থানে ফিরেছে। বিভিন্ন খাতের মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো শেষদিকে এসে হারানো দর ফিরে পায়। অপর দিকে, অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোম্পানির বেশির ভাগই আগের দিনের দর ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে খাতওয়ারি বিশ্লেষণে বীমা খাতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। আবার বেশ ক’দিন টানা দরপতনের শিকার বেক্সিমকো লিমিটেড গতকাল দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যায়। একই সাথে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বেক্সিমকো ফার্মারও।

ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইলস। ২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ২২ লাখ ৪৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকায় ৫০ লাখ চার হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল টেকনোড্রাগস। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম কটন মিলস, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, আইটি কনসালট্যান্ট, আরগন ডেনিমস ও বেক্সিমকো লিমিটেড।

ডিএসইতে গতকাল মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গতকাল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দিনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসই শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, পিএফআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সায়হাম টেক্সটাইলস, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এমএল ডাইং ও এমবিএল মিউচুয়াল ফান্ড।

এ সময় ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ফারইস্ট ফিন্যান্স। গতকাল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল প্রিমিয়ার লিজিং। দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এসবিএসি ব্যাংক, তুংহাই টেক্সটাইলস, নুরানি টেক্সটাইলস, রানার অটোমোবাইলস, সিকদার ইন্স্যুরেন্স নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স ও হামিদ ফ্যাব্রিকস লিমিটেড।