খুলনা-৬ আসনে প্রচারণায় সমানে সমান বিএনপি ও জামায়াত

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা)
Printed Edition
মো: মনিরুল হাসান বাপ্পী, আবুল কালাম আজাদ
মো: মনিরুল হাসান বাপ্পী, আবুল কালাম আজাদ

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। সাধারণ ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছেন এই দুই প্রার্থী। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অতীত নির্বাচনী ফলাফল বিবেচনায় অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তাদের ঘিরেই ভোটারদের আগ্রহ বেশি।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো: মনিরুল হাসান বাপ্পী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সর্বশেষ হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়- আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ঋণের ক্ষেত্রে দুই প্রার্থীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তবে ভোটারদের কাছে এসব বিষয় মুখ্য নয় বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। আসনটিতে অতীতে আওয়ামী লীগবিরোধী নির্বাচনে জামায়াত কখনো বিজয়ী, কখনো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিল। দীর্ঘদিন তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে নির্বাচন করলেও এবার আলাদা অবস্থান থেকে আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। অন্য দিকে ১৯৭৯ সালের পর যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্ত অবস্থানে থাকা বিএনপিও আসনটি পুনর্দখলে মরিয়া।

হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর ব্যবসায়িক আয় গত প্রায় এক যুগে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি এইচএসসি পাস উল্লেখ করেছেন। পেশায় তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি মৎস্য খামার ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। ২০১৪ সালে দাখিল করা হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ২৪ হাজার ১৩৪ টাকা। এবারের হলফনামায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ বেশি। আগের হলফনামায় তার ও তার স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালঙ্কার না থাকলেও বর্তমানে উপহার হিসেবে পাওয়া সাড়ে ৪১ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য রয়েছে। আগে কৃষিজমি না থাকলেও বর্তমানে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩৬ শতক কৃষিজমি তার নামে রয়েছে।

ঢাকার কুড়িলে তার একটি বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের বাঁধালে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া আরেকটি বাড়ির তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। ২০১৪ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তখন তার ব্যাংক ঋণ ছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা, বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রীর ব্যাংক ঋণ এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে আটটি ফৌজদারি মামলা চলমান এবং তিনি আগে ২৪টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তার কাছে নগদ রয়েছে ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬১ টাকা। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৫২৮ টাকা।

অন্য দিকে জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের হলফনামায় আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক সীমিত। তিনি বর্তমানে ঋণমুক্ত। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি কামিল পাস এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ২০১৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে পরাজিত হন।

২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৮ টাকা। তার নামে রয়েছে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৮২ একর কৃষিজমি ও ১৬ শতক অকৃষিজমি। সাত বছর আগে তার বার্ষিক আয় ছিল তিন লাখ চার হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে চার লাখ ২০ হাজার টাকা। সে সময় তার ১২ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ থাকলেও বর্তমানে তিনি ঋণমুক্ত।

তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি ফৌজদারি মামলা চলমান এবং তিনি আগে ৩১টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ১৮ হাজার ২৫০ টাকা।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী আর শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ১৮ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ১০ হাজার ২০৯ জন, নারী দুই লাখ আট হাজার ৫২৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের একজন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৫টি ও ভোটকক্ষ ৭৯৮টি। পুলিশ প্রতিবেদনে এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১২৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৮৩ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে।