শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরার শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রধানসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে; কয়েকজন শিক্ষক মাসের পর মাস ভারতে অবস্থান করলেও নিয়মিত সরকারি বেতন তুলছেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ঘটছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার অন্তত তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিস এ বিষয়ে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রূপকুমারী মণ্ডলকে ঘিরে। তিনি গত ১৮ মার্চ ভারতে যান।
অভিযোগ রয়েছে, খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অফিস থেকে ভ্রমণের অনুমোদন থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের জাল ছাড়পত্র ব্যবহার করে তিনি দেশত্যাগ করেন। এ ঘটনায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহরিয়ার রুমির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তিনি নিজেই ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেনায়ারা খানমের সিল ব্যবহার করেন। শিক্ষা অফিসের ভেতরের কর্মচারীদের বক্তব্যেও অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত শাহরিয়ার রুমি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা সন্তানের চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় মানবিক কারণে তিনি স্বাক্ষর করেন। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এ দিকে, থৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং নাঘোসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রায়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তারা প্রায় এক মাস ধরে কোনো ছুটি ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছেন। তবে নিয়মিত বেতন তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ব্যাকডেটে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেনায়ারা খানম সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার সিল-স্বাক্ষর জাল করে একজন শিক্ষককে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, অনুপস্থিত দুই শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।



