সাভারে ১৪ বোমাসহ জেএমবি সদস্য আটক, বিকেলে মিলল প্রেসার কুকার বোমা

Printed Edition
সাভারে বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়
সাভারে বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাদাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে গতকাল ভোরে স্থানীয়রা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পোশাক, কুরআন শরিফসহ একটি প্রেসার কুকারে স্কচটেপ প্যঁচানো বোমা দেখতে পেয়ে ‘৯৯৯’এ ফোন দেন। খবর পেয়ে সাভার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হলে বিকেলে ঘটনাস্থলে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা নিষ্ক্রিয় করে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি ওই প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠের পাশের ঝোপে রেখে দেয়। পরে স্থানীরা ড্রামটি খুলে প্রেসার কুকারে বোমা সদৃশ বস্তু দেখে মসজিদের মাঠে রাখেন। সাভার মডেল থানার (এসআই) ইমরান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল এটি একটি প্রেসার কুকার বোমা হতে পারে। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএমপি বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিলে চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেলে বোমা সদৃশ বস্তÍুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ আরিফ হোসেন (২৮) নামে ‘জামাত-উল -মুজাহিদিনের (জেএমবি)’ এক সদস্যকে আটক করেছে সিটিটিসি। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে ৯টি পাইপ সদৃশ বোমা, চাকু, ব্যাগসহ জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা সাংবাদিকদের জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না। গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তিসহ দু’জন বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আমরা বাসা ভাড়া দিই। তারা জানিয়েছিলেন, গ্রামের বাড়ি পাবনার হেমায়েতপুর এলাকায়। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে তাদের ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাবেন। এ ছাড়া ভাড়া নেয়ার সময় তারা জানিয়েছিলেন, ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলেই আমরা তাদের বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বাসার ভেতরে এত কিছু লুকিয়ে রাখবে, সেটা আমরা কোনোভাবেই জানতাম না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানার পর কাউন্টার টেরোরিজম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। পরে গতকাল সকাল ৬টায় তাদের অভিযান শেষ হয়।

এ দিকে সাভারে প্রেসার কুকার বোমা এবং একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।