মাস না যেতেই উঠে গেছে ২ কোটি টাকার কার্পেটিং

Printed Edition
সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং : নয়া দিগন্ত
সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং : নয়া দিগন্ত

আসহাবুজ্জামান শাওন কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার এক মাস না পেরোতেই সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবেই সড়কের কার্পেটিং এতো দ্রুত উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শমশেরনগর এয়ারপোর্টসংলগ্ন রেলগেট থেকে পতনঊষার হয়ে তারাপাশা বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং করা হয়। সাইফুল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার সোহেল আহমেদ কাজটি বাস্তবায়ন করেন। গত মার্চে কাজ শুরু হয়ে জুলাইয়ে শেষ হয়।

গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে বলে স্থানীয়রা জানান। বৃষ্টির পানি গর্তে জমে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

সিএনজি অটোরিকশাচালক জহির মিয়া, সোয়েব আহমেদ ও সেলিম মিয়া প্রশ্ন রেখে বলেন, সড়ক সংস্কারের এতো অল্প সময়ের মধ্যে কার্পেটিং কিভাবে উঠে যায়? যান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে এই সড়কে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় তা বোঝা যায় না। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে।

স্থানীয় জয়নাল আহমেদ, আব্দুল হাই ইদ্রিসী ও মাইদুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, কাজ চলার সময়ই নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তারা। তবে তাদের এই আপত্তি আমলে নেয়া হয়নি।

ঠিকাদার সোহেল আহমেদের বক্তব্য জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি প্রথমে কাজটি তার প্রতিষ্ঠানের নয় বলে উল্লেখ করেন এবং ফোন কেটে দেন।

কমলগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। কাজটি ম্যানুয়ালি করায় বিটুমিন অতিরিক্ত গরম হলে এবং বৃষ্টির পানি জমলে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদার দায়মুক্ত নন। এক বছরের সিকিউরিটি পিরিয়ড রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে মেরামত করতে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, সড়কটি পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।