- ই-জিপি নিয়ে অংশীজন পরামর্শক সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
- সরকারি কেনাকাটার মাধ্যমে অর্থপাচার হয় : আবদুল হক
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নিবন্ধন ছাড়াই অনেক কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং বেনামে প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ (অথরিটি) গঠন করে বড় বড় ভবন নির্মাণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর কার্যকারিতা ছিল না।
এদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় একটি সিন্ডিকেট ও গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে অধিকতর উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়ন, ই-জিপি বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন এবং বিপিপিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস এম মঈন উদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী। কর্মশালায় বিভিন্ন ক্রয়কারী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া ও গণমাধ্যমের ৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিপিপিএর পরিচালক শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নতুন উদ্যোক্তারা যাতে যেকোনো ব্যবসা-বাণিজ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতার (ফেয়ার কম্পিটিশন) সুযোগ পান, সেটিই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালাকে সময়োপযোগী করে নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পথ আরো সহজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিপিপিএর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। সরকারি ক্রয়ে অধিকতর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা প্রয়োজন।
আইএমইডির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রধান দু’টি কারণ হলো ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্রয় কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা। সরকার নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিপিপিএর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-জিপি সিস্টেমের আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারি ক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে হবে। সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া তারা অধীনস্থ বিভাগ, অধিদফতর ও দফতরের ক্রয় কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকি করতে পারবেন না।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ (অথরিটি) গঠন করে বিশাল বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা দেশে উদ্বেগজনক। অন্য দিকে শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পান না। সরকারের উচিত শিল্পায়নে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া। তিনি আরো বলেন, সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি অপরাধমূলক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আলোচকরা বলেন, সরকারি সেবার দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের সাথে অন্যান্য সরকারি ডিজিটাল সিস্টেমের অধিকতর আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম মঈন উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিপিপিএ বর্তমান ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, নাগরিকবান্ধব এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত সংগ্রহের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ধারাবাহিক অংশীজন পরামর্শ সভার আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, এসব পরামর্শ থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।



