নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ৫ আগস্ট-পরবর্তী কখনো নির্বাচন পেছানো কিংবা আগানোর কথা বলেনি। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, সরকার যখনই নির্বাচন দেবে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, যেনতেন কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এ পরিস্থিতি কখনো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে না। যারা এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তারা ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স লুটসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল ও প্রত্যেকের প্রার্থীর জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ভোটার ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আসন্ন ১৯ জুলাই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়নে গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেন। মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, আগামী ১৯ জুলাইয়ের জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতির জন্য নেতৃবৃন্দ মাঠ পরিদর্শনে এসেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সমাবেশের জন্য ৩১ ফুট প্রস্থ ও ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট বিশাল মঞ্চ থাকবে। প্যান্ডেলের ভেতরে এলইডি প্রজেক্টর থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সিসি টিভির ব্যবস্থা থাকবে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়াও গাড়ি পার্কিংয়ের বিশেষ সুবিধা থাকবে। ঢাকা চলো স্লোগানে দেশবাসীকে মহাসমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের উত্থাপিত সাত দফা দাবি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। তাই তিনি দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে মহাসমাবেশ সফল করতে দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সমাবেশ সফল করতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
মাঠ পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও মো: ইয়াসিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ : পিআর পদ্ধতির নির্বাচনেই জনগণের সরকার ও সংসদ গঠিত হয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, প্রচলিত নিয়মে কোনো দল ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে। অপর দিকে অন্য দল ৪৯ শতাংশ ভোট পেলেও তার কোনো মূল্যায়ন হয় না; কিন্তু পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন হয়। এ জন্য জনগণের সরকার ও সংসদ গঠিত হয়। ফলে একক কোনো দল স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পারে না, ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারে না। ক্ষমতায় বসতে পারলে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউ কেউ পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে যেতে রাজি হচ্ছে না। তিনি বলেন, সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে কারোই আপত্তি থাকবে না।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গত রোববার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তৃতা করেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, ঢাকা-৯ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কবির আহমেদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো: শামছুর রহমান প্রমুখ।
সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে ১৯ জুলাই ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন করতে হবে- মাওলানা আবদুল হালিম
গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজার আলফালাহ মিলনায়তনে আগামী ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ‘জাতীয় সমাবেশ’ সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণের উদ্যোগে জেলা/মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য এবং উপজেলা/থানা আমির ও সেক্রেটারিদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের পরিচালক সাইফুল আলম খান মিলন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আগামী ১৯ জুলাই ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন করতে হবে। সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিতে ‘জাতীয় সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জাতীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম, গণসংযোগ ও জেলা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত জনশক্তি ও সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে সামনের দিনগুলোতে সদা তৎপর থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তর : বাংলাদেশের মানুষ গত ৫৪ বছর ধরে বিভিন্ন দলের শাসন দেখেছে; কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করেছে, এমন দল ও শাসন আমরা খুব কমই পেয়েছি। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর মানুষের মধ্যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মানুষ আজ বলতে শুরু করেছে, ‘সব দলকে দেখা শেষ, জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ’। গতকাল জামায়াতে ইসলামী, তুরাগ মধ্য থানার এক মিছিল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক এ কথা বলেন। থানা আমির গাজী মনির হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং থানা নায়েবে আমির কামরুল হাসান ও সেক্রেটারি মহিবুল্লাহ বাচ্চুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সুরুজ্জামান।



