সরকারিভাবে ধান চাল ও গম সংগ্রহ শুরু ৩ মে

Printed Edition
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ  করেন : পিআইডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন : পিআইডি

বাসস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে সরকারিভাবে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হচ্ছে। এটি চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এই ধান, চাল ও গম সংগ্রহ করা হবে।

গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার এ বছর সারা দেশে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ধান, সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে। মন্ত্রী বলেন, ধানের কেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা মূল্যে সরকারিভাবে সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চাল সংগ্রহ করার বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী পরিমাণ মজুদ রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুদ এবং কী পরিমাণ আমদানি করব- এই বিষয়গুলো নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সভায়।

মন্ত্রী বলেন, দেশে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন। সরকারের কাছে বর্তমানে মজুদ আছে ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জিটুজি পদ্ধতিতে সরকার গম আমদানি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জিটুজি পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা রয়েছে বাংলাদেশের। সেখান থেকে পুরোপুরি আমদানি সম্ভব না হলে বিকল্প যেকোনো উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গম আমদানি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। আমদানি প্রয়োজন হবে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংগ্রহকৃত অবশিষ্ট চাল মজুদ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চালে আমাদের জাতীয় চাহিদা চার কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চালের ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি নেই। উৎপাদনও ভালো হয়েছে এ বছর। আমাদের যে আবহাওয়া রিপোর্ট, সেই অনুসারে এ পর্যন্ত দুর্যোগের কোনো আশঙ্কা নেই ইনশা আল্লাহ। সেই হিসাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন করতে পারব বলে আশা করছি।