আত্রাইয়ে সুতিজাল দিয়ে মাছ শিকার বাধাগ্রস্ত রবিশস্যের আবাদ

আবাদি জমিগুলো কিছুটা নিচু এলাকা হওয়ায় এসব আবাদি জমির মাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল ও বিলের সাথে নদীর সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে স্লুইস গেট গেটের মাধ্যমে। তবে বিভিন্ন স্লুইস গেটে সুতি জাল দিয়ে পানি প্রবাহের বাধাগ্রস্ত করে রাখায় মাঠের পানি সহজে নামতে পারছে না। যার কারণে রবিশস্যেরর আবাদ করা যাচ্ছে না।

Printed Edition
আত্রাই নদীতে সুতিজাল দিয়ে মাছ ধরায় ধান চাষে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
আত্রাই নদীতে সুতিজাল দিয়ে মাছ ধরায় ধান চাষে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নগাঁর আত্রাইয়ে নিষিদ্ধ সুতি জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। যার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যাহত হচ্ছে পেঁয়াজ, সরিষাসহ অন্যান্য রবিশস্যের আবাদ। স্থানীয় কৃষকরা তাই দ্রুত আত্রাইয়ে পানি নিষ্কাশন করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন দেখো যায়, উপজেলার পৈসাওতা ও উদয়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে সুতি জাল পেতে মাছ শিকার করছে। এ কারণে কৃষিজমির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রবি মওসুম শুরু হওয়ার সময় প্রায় ১০-১৫ হাজার বিঘা রবিশস্য সময় মতো আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।

আত্রাই উপজেলার আবাদি জমিগুলো কিছুটা নিচু এলাকা হওয়ায় এসব আবাদি জমির মাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল ও বিলের সাথে নদীর সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে স্লুইস গেট গেটের মাধ্যমে। তবে বিভিন্ন স্লুইস গেটে সুতি জাল দিয়ে পানি প্রবাহের বাধাগ্রস্ত করে রাখায় মাঠের পানি সহজে নামতে পারছে না। যার কারণে রবিশস্যেরর আবাদ করা যাচ্ছে না।

কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি জমি থেকে পানি নেমে যায়। কিন্তু এ বছর উপজেলার বিপ্রো-বোয়ালিয়া, কাঁদ ওলামা, মাঝগ্রাম, নৈদীঘি, নবাবের তাম্বু, মধ্য বোয়ালিয়াসহ বেশ কিছু গ্রামের মাঠে জমে থাকা পানি এখনো নামতে পারছে না।

দেখা যায়, প্রধান পানি নিষ্কাশন খাল ডুবাই, ইসরাফিল সেতু, শুঁটকিগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশন খালের আড়াআড়ি জুড়ে বাঁশ, পলিথিন, চাটাই দিয়ে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এই বেড়ার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলার কাঁদ ওলামা গ্রামের কৃষক আ: মজিদ বলেন, আমাদের গ্রামের মাগুরার বিলের পানি এখনো নেমে যায়নি। যার কারণে রবিশস্যেরর আবাদ শুরু করতে পারিনি এখনো। গত বছর এই সময় জমিতে সরিষাও ভুট্টা আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর জমিতে পানি থাকায় আবাদ শুরুই করতে পারেনি।

পৈসাওতা গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, এই গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালে অবৈধ সুতি জাল পেতে মাছ শিকার করায় পানি নামতে পারছে না। কয়েক দিন আগে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে সুতি জাল উঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তারা আবারো খালে সুতি জাল বসিয়ে মাছ শিকার করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্যজীবীসহ আমরা যারা রবিশস্য আবাদের জন্য অপেক্ষা করছি।

বিপ্রো-বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম (টিপু) বলেন, আমি ১২ বিঘা জমি আবাদ করি। এবার মাঠের জমিতে পানি জমে থাকায় ভুট্টা ও অন্যান্য রবি ফসলের বীজও বপন করতে পারছি না। প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে অবৈধ সুতি জাল উচ্ছেদ এবং আমাদের রবিশস্য আবাদের সুযোগ করে দিতে সহযোগিতা করার আবেদন জানাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেননি। সুতি জালের কারণে আবাদি জমি থেকে পানি নেমে যেতে না পারলে রবিশস্য আবাদে বাধাগ্রস্ত হবে- এটাই তো স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেয়া হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ সুতিজাল উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চালিয়েছি। এখনো যদি কোথাও অবৈধ সুতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করা হয়, তাহলে আমরা দ্রুতই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।